মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৫ আশ্বিন ১৪২৮

মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

মুসলিমদের টার্গেট করে অযোধ্যায় বজরং দলের প্রশিক্ষণ, দলীয় প্রধান আটক
বিবিসি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মে, ২০১৬, ১:৪২ এএম আপডেট: ২৭.০৫.২০১৬ ২:২৮ এএম  Count : 1272

                                                         
ভারতে কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠন বজরং দলের অস্ত্র প্রশিক্ষণে মুসলিম সাজিয়ে টার্গেট হিসেবে ব্যবহারের একটি ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের পুলিশ অযোধ্যাতে বজরং দলের প্রধানকে গ্রেফতার করেছে।সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে-পড়া ঐ ভিডিওতে দেখা গেছে, বজরং দলের স্বেচ্ছাসেবকরা আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্যান্য হাতিয়ার নিয়ে জঙ্গিদের মোকাবিলার মহড়া নিচ্ছে – আর তাদের আক্রমণের নিশানা হিসেবে যাদের ব্যবহার করা হয়েছে তারা দেখতে দাড়িওলা মুসলমানদের মতো।বজরং দল – যারা বিজেপির সহযোগী বিশ্ব হিন্দু পরিষদেরই যুব শাখা – তারা অযোধ্যাতে এই অস্ত্র প্রশিক্ষণ শিবিরটি আয়োজন করেছিল গত ১৪ই মে।                                                                                                      

বাবরি মসজিদ-রামমন্দির বিতর্কের শহর অযোধ্যায় পরিষদের নিজস্ব ক্যাম্পাস করসেবকপুরমের ভেতরেই ওই শিবিরে বজরং দলের স্বেচ্ছাসেবকদের শেখানো হচ্ছিল বন্দুক-হাতিয়ার নিয়ে কীভাবে ইসলামী জঙ্গিদের মোকাবিলা করতে হবে।ভিডিওতে দেখা গেছে যুবকরা বন্দুক নিয়ে শূন্যে গুলি ছুঁড়ছেন। সদলবলে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন ইসলামী পোশাক পরা সাজানো জঙ্গিদের ওপর।এ সপ্তাহের গোড়া থেকেই ঐ শিবিরের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।                                                                                  
                                                
                                                                              মুসলমান সাজিয়ে টার্গেট প্র্যাকটিশ      
ভারতের মুসলিম নেতারা এই ধরনের প্রশিক্ষণের কড়া নিন্দা করেছেন। যদিও শিবসেনার মতো হিন্দুত্ববাদী দলগুলো এর মধ্যে কোনও অন্যায় দেখছে না।অযোধ্যার মতো একটি স্পর্শকাতর স্থানে বজরং দল কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এই ধরনের শিবির আয়োজন করতে পারে,মুসলমান সাজিয়ে টার্গেট প্র্যাকটিশ। প্রশ্ন ওঠে তা নিয়েও।তবে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল ও বিজেপির সাবেক নেতা রাম নাইক দাবি করেন এরকম প্রশিক্ষণ দেয়া যেতেই পারে।মি. নাইক যুক্তি দেন, "গরু সংরক্ষণের জন্য সব ধরনের প্রশিক্ষণ জরুরি। যে নিজেকে বাঁচাতে পারে না, সে সমাজকে কীভাবে বাঁচাবে? গরুদের কীভাবে বাঁচাবে? কাজেই আত্মরক্ষার উপায় তো শেখাতেই হবে। অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে শুধু আপত্তি তুললেই তো হবে না, কী উদ্দেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে সেটাও দেখতে হবে।"

রাজ্যপাল নিজে শিবিরের আয়োজকদের সমর্থনে মুখ খুললেও পুলিশ শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েছে বজরং দলের অযোধ্যা-ফৈজাবাদ ইউনিটের প্রধান মহেশ মিশ্রকে গ্রেফতার করতে।ফৈজাবাদ পুলিশের ডিআইজি ভি. কে. গর্গ জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে এই গ্রেফতারের আগেই হায়দ্রাবাদের মুসলিম নেতা ও এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি মন্তব্য করেন, “বজরং দলের এই অস্ত্র শিবির এটাই প্রমাণ করে যে মোদি সরকার দেশকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। দেশের সেনা-পুলিশের ওপর ভরসা থাকলে হাতে অস্ত্র ওঠাতে হবে কেন?” “আর দেশের বিপদ নিয়ে যদি বজরং দল এতই চিন্তিত হয়, তাহলে তারা ছত্তিশগড়-ঝাড়খন্ডে গিয়ে মাওবাদীদের সঙ্গে লড়াই করুক না? কিংবা কাশ্মীর সীমান্তে গিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের মোকাবিলা করুক,“ বলেন মি. ওয়াইসি।ওয়াইসি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, ‘যদি কোনো মুসলিম সংগঠন এ রকম শিবির স্থাপন করে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দিত তাহলে কী প্রতিক্রিয়া হতো?’
                                                        
                                                                                       বজরং দলের ক`জন কর্মী
কংগ্রেস মুখপাত্র শোভা ওঝা বলেছেন, ‘সরকারকে এ ধরণের প্রশিক্ষণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত। এজন্য রাজ্য সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক যে যখনই নির্বাচন আসে তখন রাজ্যে বিজেপি এ ধরণের কাজ শুরু করে দেয়।’

সিপিআই নেতা অমিক জামই ফেসবুকে বলেছেন, ‘বাবরী মসজিদের কাছে বজরং দলের প্রশিক্ষণ আসলে আগামী নির্বাচনের জন্য পরিবেশ তৈরি করার জন্য প্রস্তুতি। পুলিশ প্রশাসনকে কঠোরভাবে এর মোকাবিলা করতে হবে।’

 শিবির আয়োজনের বিষয়কে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা হলেও তাদের সঙ্গী শিবসেনা আবার অস্ত্র প্রশিক্ষণের উদ্যোগকে সমর্থন করেছে।শিবসেনার মুখপাত্র ও এমপি সঞ্জয় রাউত বজরং দল নেতার গ্রেফতারের নিন্দাও করেছেন।আগামী ৫ জুন উত্তর প্রদেশের সুলতানপুর, গোরখপুর, পিলভিট, নয়ডা এবং ফতেহপুরেও এ ধরণের শিবির স্থাপন করা হবে। তাদের ওপর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা তথা দাঙ্গার অভিযোগ থাকায় এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।আগামী বছরের শুরুতে উত্তরপ্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভোটের আগে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক ঘটনা আরও ঘটবে বলেও পর্যবেক্ষকরা এখন থেকেই আশঙ্কা করছেন।


আরও সংবাদ   বিষয়:  মুসলিম   টার্গেট   অযোধ্যা   বজরং দল   প্রশিক্ষণ   দলীয় প্রধান   আটক   কট্টরপন্থী   হিন্দু সংগঠন   




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশক ও সম্পাদক :---
"মা নীড়" ১৩২/৩ আহমদবাগ, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪
ফোন : +৮৮-০২-৭২৭৫১০৭, মোবাইল : ০১৭৩৯-৩৬০৮৬৩, ই-মেইল : [email protected]