বৃহস্পতিবার ২ ডিসেম্বর ২০২১ ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

বৃহস্পতিবার ২ ডিসেম্বর ২০২১

মোহসিন আউলিয়া রহ. মাজারে ঈদে মিলাদুন্নবী দ. উপলক্ষ্যে খাবার বিতরণ
সুন্নীবার্তার,আনোয়ারা প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ৬:৪২ পিএম  Count : 518

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  উপলক্ষে প্রায় ৪ হাজার মানুষের মাঝে সফলভাবে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (২২ অক্টোবর,২০২১) সন্ধ্যায় উপজেলার বটতলীর হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া রহঃ মাজার শরীফপ্রাঙ্গণে দরবার শরীফ ও মোকামী পাড়া সমাজ উন্নয়ন কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ খাবারের আয়োজন করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, দরবার পরিচালনা কমিটির মোতোয়াল্লি আলহাজ্ব ফজল করিম, যুগ্ম মোতোয়াল্লি মাষ্টার জহিরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের মিয়া, দরবার ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপন কমিটির সচিব আইয়ুব নুরী বাবুল, দরবারের খাদেম নিজাম উদ্দীন মাসুদ, জসীম উদ্দীন, মনজুর ইসলাম, মোজাম্মেল হক, এস এম মনসুর ও এস এম আনিছ প্রমুখ।


দরবার ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  উদযাপন কমিটির সচিব আইয়ুব নুরী বাবুল বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  উপলক্ষে গরীব ও দুস্থ সহ প্রায় ৪ হাজার মানুষের জন্য তাবারুক হিসেবে খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে এ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া রহ. কখন এবং কিভাবে বাংলাদেশে আগমন করেন তার ইতিবৃত্ত জানা যায়নি। কিংবদন্তিতে প্রকাশ পায় শত বৎসর পূর্বে তার শ্রদ্ধেয় মামা হযরত বদর আউলিয়া রহ. সহ প্রথম দিল্লিতে পদার্পণ করেন।

কথিত আছে হযরত বাবা বদর আউলিয়া ও বাবা হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া রহ. একসাথে চট্টগ্রামে আগমন করেছিলেন। সেখান থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা হয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ঝিওরী গ্রামের শংখ নদীর তীরে আস্তানা স্থাপন করেন। 

আধ্যাত্মিক রূহানিয়াতের মধ্যে মামা ভাগিনার এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। রুহানিয়তের সফরে মামা ভাগিনার সফর সেই আদিকাল থেকে প্রচলিত।

হযরত মুসা (আ.) হযরত খিজির (আ.) এর নিকট তরিকতের সফরে যাওয়ার সময় তার ভাগ্নে হযরত ইউসা ইবনে নুহ (আ.) ছিলেন। এভাবে রুহানিয়তের ধারা প্রচলিত রয়েছে।হযরত বাবা মোহছেন আউলিয়া (রহ.) তাঁর মামা হযরত বদর আউলিয়া (রহ.)’র পিছনে সাগর পথে রওয়ানা দিয়াছেন। সেই নদী ও সাগর পথে তাদের বহনকারী কিস্তি বা জাহাজ আর কিছু নয় বরং তাদের ব্যবহৃত পাথর ছিল যা বর্তমানে তাদের মাজার শরীফে বিদ্যমান আছে। 

হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া রহ.দীর্ঘদিন ধরে এবাদত রেয়াজতে মগ্ন ছিলেন। এভাবে ইবাদত করতে করতে অন্তিম সময় ঘনিয়ে এলে  ৯৭১ বাংলা ৬ আষাঢ় ১৫৬৫ সনে তিনি আল্লাহতায়ালার সান্নিধ্যে ফিরে যান।
ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। 

তিনি যে ঘরে অবস্থান করতেন ঐ হুজরা শরীফে শংখ নদীর পাড়ে তাকে দাফন করা হয়। এভাবে কয়েক বৎসর অতিবাহিত হওয়ার পর শংখ নদীর ভাঙনে হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া রহ.এর পবিত্র মাজার শরীফ ভাঙন দেখা দিলে একদিন পটিয়া উপজেলা বড় উঠান গ্রামের তৎকালীন এক মুসলিম জমিদারকে স্বপ্নে নির্দেশ দিয়ে বললেন আমার মাজার শংখ নদীর ভাঙনে ভেঙে তুমি আমার কফিনখানি বটতলী গ্রামে দাফন কর। এ প্রভাবশালী ব্যক্তি বাবাজানের স্বপ্নের নির্দেশকে গুরুত্ব না দেয়ায় ক্রমান্বয়ে তার জমিদারীর অবণতি ঘটতে থাকে।

তৎসময়ে বর্তমানে আনোয়ারা উপজেলা বটতলী গ্রামের তৎকালীন এক বুজুর্গ ব্যক্তিকে হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া রহ. স্বপ্নে একই নির্দেশ দিয়ে বলেন যে, তোমরা ঝিওরী গ্রামের শংখ নদীর পাড়ে আমার কবর ভাঙ্গা অবস্থায় দেখবে, তার পার্শ্বে একটি পাথরও দেখবে। তোমরা আমার কফিন ও পাথরখানা নিয়ে বটতলী গ্রামের যেখানে সুবিশাল একটি বটগাছ এবং উলুবন সমৃদ্ধ জায়গা আছে সে স্থানে দাফন করবে।তৎকালীন ঐ  বুজুর্গ ব্যক্তি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা স্বপ্নের উক্ত আদেশ পেয়ে নির্দিষ্ট সময়ে ঝিওরী গ্রামের শংখ নদীর তীরে গিয়ে হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া রহ. এর পবিত্র কফিন মোবারক সসম্মানে এনে দাফন করেন এবং তাঁর ব্যবহৃত পাথরটি বর্তমান মাজারের বারান্দায় সংরক্ষণ করেন।

শাহ মোহছেন আউলিয়া রহ. ছিলেন প্রথম অলৌকিক কারামত সম্পন্ন বুজুর্গান আউলিয়া। ওলী দরবেশগণ আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতা অর্জন করে অলৌকিক বা অতি লৌকিক কেরামতি কাজের দ্বারা দুস্থ লোকদের সাহায্য করে থাকেন। হযরত মোহছেন আউলিয়া রহ. কেরামত ও রুহানী শক্তি কখনো স্বেচ্ছায় প্রকাশ করেননি বরং বিভিন্ন প্রয়োজন ও পরিবেশ অনুযায়ী এই জাতীয় কর্ম মানুষের সামনে উপস্থাপন করে বিপদগামী জনগণকে হেদায়েত করেছিলেন। তাঁর বিভিন্ন কারামত তাঁর শান ও মান সম্পর্কে সুস্পষ্ট সাক্ষ্য প্রদান করে


আরও সংবাদ   বিষয়:  মোহসি আউলিয়া   আনোয়ারা   




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশক ও সম্পাদক :---
"মা নীড়" ১৩২/৩ আহমদবাগ, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪
ফোন : +৮৮-০২-৭২৭৫১০৭, মোবাইল : ০১৭৩৯-৩৬০৮৬৩, ই-মেইল : [email protected]