শিরোনাম: |
না'ত কবিতা মীলাদ শরীফ দাঁড়িয়ে পাঠ করা বা মীলাদে ক্বিয়াম করা আদাব
অন্যথা বেআদাবী
মাহমুদ হাছান
|
না'ত কবিতা মীলাদ শরীফ দাঁড়িয়ে পাঠ করা বা মীলাদে ক্বিয়াম করা আদাব ![]() না'ত কবিতা মীলাদ শরীফ দাঁড়িয়ে পাঠ করা বা মীলাদে ক্বিয়াম করা আদাব হুযূর-ই করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম-এঁর তাওয়াল্লুদ শরীফ পাঠের শেষান্তে দাঁড়িয়ে হুযূর-ই করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর প্রতি সালাম পেশ করাকে ‘ক্বিয়াম’ নামে অভিহিত করা হয়। আর এ ক্বিয়াম হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র সম্মানের জন্যে করা হয়। সম্মান প্রদর্শনের অনেক পদ্ধতি রয়েছে। ক্বোরআন-সুন্নাহর মধ্যে সম্মান প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে। যখন যে পরিবেশে যে জিনিষকে সম্মান প্রদর্শনের নিয়ম ধরা হয়, সে পরিবেশে সে পদ্ধতিতে সম্মান প্রদর্শন করা ক্বোরআন-সুন্নাহ সমর্থিত। এর উদ্দেশ্য হল সম্মান প্রদর্শন করা। মীলাদ শরীফের ক্বিয়াম ক্বোরআন, হাদীস ও প্রখ্যাত ইমামগণের উক্তি দ্বারা প্রমাণিত। ক্বিয়ামের বিপক্ষে বিন্দুমাত্র দলীল ইসলামী শরীয়তে নেই; কিন্তু এক শ্রেণীর (ওহাবী) মোল্লারা বলে ও লিখে থাকে যে, কোন ইমাম, মুজতাহিদ, সাহাবী, তাবে‘ঈ নাকি ক্বিয়াম করেননি। আমাদের কথা হলো, যারা বলে সাহাবা-ই কেরাম, তাবে‘ঈন, তব‘ই তাবে‘ঈন, সলফে সালেহীন, আ‘ইম্যা-ই মুজতাহিদীন ক্বিয়াম করেননি, তাঁরা কি তাদের যুগে ছিলো? তারা কি তাঁদের সকল কর্মকান্ড স্বচক্ষে দেখেছে? নিশ্চয়ই তারা তখন ছিলো না। তাই তারা দেখেও নি। কিসের উপর ভিত্তি করে ইমামগণ ক্বিয়াম করেননি বলে তারা দাবি করে? মীলাদে ক্বিয়াম নবী পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র তা’যীমের জন্য করা হয়। নবী পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র তা’যীম সকল মু’মিনের উপর সদা সর্বদা অপরিহার্য। তাই সাহাবা-ই কেরাম, তাবে‘ঈন, তব‘ই তাবে‘ঈন, আইম্মা-ই মুজতাহিদীনসহ তরীক্বতের সকল ইমামগণ সদাসর্বদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর তা’যীমে সচেষ্ট ছিলেন। শরীয়ত ও তরীক্বতের প্রতিটি কাজ তাঁরা নবী পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর তা’যীমের আলোকে করেছেন। যুগে যুগে তা’যীম ও সম্মানের ধারা ও ধরন পরিবর্তন-পরিমার্জন করা হয়। হুযূর-ই আক্রামের মীলাদে পাকের আয়োজন যেমন তাঁরই সম্মানের বহিঃপ্রকাশ, তেমনিভাবে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রতি সালাম পেশ করাও তা’যীমেরই বহিঃপ্রকাশ। শরীয়তের পরিভাষায়, কোন কাজ এক দিক দিয়ে বৈধ হলে অন্য দিক দিয়ে অন্য কারণে তা অবৈধ হয়ে যায়। যেমন- নামায ভাল ইবাদত। এর মধ্যে ফরয, সুন্নাত, ওয়াজিব ও মুস্তাহাব রয়েছে। আবার নামায অন্য কারণে হারামও হয়। যেমন, اوقات منهية বা নিষিদ্ধ সময়সমূহে- সূর্যোদয়, দ্বি-প্রহর ও সূর্যাস্ত এবং নাপাক অবস্থায় নামায পড়া হারাম। ‘ক্বিয়াম’-এর প্রকারভেদঃ জায়েয, ফরয, সুন্নাত, মুস্তাহাব, মাকরূহ ও হারাম-এ কয়েক প্রকারের কিয়াম রয়েছে। প্রত্যেক প্রকার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা নিম্নরূপ: এক. ক্বিয়াম-ই জায়েয বা মুবাহ্: দুনিয়াবী কোন কাজের জন্য দাঁড়ানো ‘জায়েয-ক্বিয়াম’। যেমন- দাঁড়িয়ে ঘর নির্মাণ করা, দাঁড়িয়ে চলাফেরা করা ইত্যাদি। ক্বোরআন পাকে এরশাদ হয়েছে- فَاِذَا قُضِيَتِ الصَّلٰوةُ فَانْتَشِرُوْا অর্থাৎ ‘জুমু‘আর নামায শেষে যমীনে ছড়িয়ে পড়ো।’ [সুরা জুমুআ' ৬২:১০।] আর এ ছড়িয়ে পড়া দন্ডায়মান হওয়া ব্যতীত হতে পারে না। সুতরাং এ ক্বিয়াম বৈধ বা মুবাহ্। দুই. ক্বিয়াম-ই ফরয: পাঁচ ওয়াক্ত ফরয ও ওয়াজিব নামাযের মধ্যে ক্বিয়াম করা ফরয। যেমন- ক্বোরআন-ই করীমের এরশাদ- وَقُوْمُوْا لِلهِ قَانِتِيْنَ অর্থাৎ ‘আল্লাহর সম্মুখে আনুগত্য সহকারে দাঁড়িয়ে যাও।’ [সুরা বাক্বারাহ্ ২/২৩৮।] সুতরাং কেউ দাঁড়ানোর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যদি বসে নামায পড়ে তাহলে তার নামায বাতিল। তিন. ক্বিয়াম-ই নফল: নফল নামায দাঁড়িয়ে পড়া মুস্তাহাব। বসে বসে পড়লেও শুদ্ধ হয়ে যাবে; কিন্তু দাঁড়ানোর মধ্যে সাওয়াব দ্বিগুণ। চার. ক্বিয়াম-ই সুন্নাত: ইসলাম ধর্মের কোন সম্মানিত বস্তুকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য দাঁড়ানো সুন্নাত। যেমন- মক্কা শরীফের ঝমঝমের পানি পান করার সময় দাঁড়ানো। ওযূ করার পর অবশিষ্ট পানি দাঁড়িয়ে পান করা সুন্নাত। হুযূর-ই করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর রওযা-ই পাকে হাযির হয়ে নামাযের মতো হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে সালাম পেশ করা সুন্নাত। যেমন- ‘ফতোয়া-ই আলমগীরী: ১ম খন্ড: কিতাবুল হজ্জঃ আদাবু যিয়ারাতি ক্বাবরিন নবীয়্যি’ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এ উল্লেখ করা হয়েছে- وَيَقِفُ كَمَا يِقِفُ فِى الصَّلٰوةِ وَيُمَثِّلُ صُوْرَتَهٗ الْكَرِيْمَةَ كَاَنَّه نَآئِمٌ فِىْ لَحْدِهٖ يَعْلَمُ بِهٖ وَيَسْمَعُ كَلاَمَهٗ অর্থাৎ রওযা-ই আক্বদাসের সামনে নামাযের মতো আদবের সাথে দাঁড়াবে এবং অন্তরে হুযূর-ই আক্রাম (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর আকৃতি মুবারক কল্পনা করবে যেন হুযূর-ই করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁর রওযা-ই আক্বদাসে আরাম করছেন এবং তাঁর সম্পর্কে হুযূর-ই করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম জানেন ও তার কথা শুনেন। অনুরূপ মুমিনের কবরে ফাতিহা পাঠ করার সময় কেবলার দিকে পিঠ এবং কবরের দিকে মুখ করে দাঁড়ানো সুন্নাত। যেমন- ‘ফাত্ওয়া-ই আলমগীরী: বাবু যিয়ারাতি ক্বুবূরিল আম্বিয়া’য় আছে- يَخْلَعُ نَعْلَيْهِ ثُمَّ يِقِفُ مُسْتَدْبِرَ اَلْقِبْلَةِ مُسْتَقْبِلاً لِوَجْهِ الْمَيِّتِ অর্থাৎ ‘‘(প্রথমে) যিয়ারতকারী তার জুতা দু’টি খুলে ফেলবে, তারপর ক্বেবলাকে পিঠ দিয়ে এবং কবরস্থ ব্যক্তির চেহারাকে সামনে রেখে দাঁড়াবে।’’ হুযূর-ই আকরাম (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর রওযা-ই পাক যিয়ারত- ঝমঝমের পানি পান করা, ওযূর অবশিষ্ট পানি পান করা এবং ঈমানদারদের কবর যিয়ারত সবগুলোই ইসলামের দৃষ্টিতে বরকতময় কাজ। ফলে এগুলোর প্রতি সম্মান দেখিয়ে ক্বিয়াম করা বা দাঁড়ানো শরীয়তের বিধান সাব্যস্ত হলো। যখন কোন ধর্মীয় পেশ্ওয়ার আগমন হয়, তখন তাঁর জন্য দাঁড়ানো সুন্নাত। এভাবে ওই দ্বীনী পেশ্ওয়ার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সুন্নাত; বসে থাকা বেয়াদবী। যেমন হুযূর-ই করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সাহাবা-ই কেরামকে হযরত সা’দ ইবনে মু‘আয রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর আগমনে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, قُوْمُوْا اِلٰى سَىيِّدِكُمْ (তোমরা উঠো, তোমাদের সরদারের দিকে এগিয়ে যাও।) এ ক্বিয়ামটা তা’যীমি ক্বিয়াম। যেহেতু, এখানে سَيِّدِكُمْ (তোমাদের সরদার) বলে তা’যীমের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, অন্য কোন ওযরের কারণে যদি দাঁড়ানোর কথা আসত তাহলে- سَيِّدِكُمْ বলতেন না; ঘোড়া থেকে তাঁকে নামিয়ে আনার জন্য দু’/একজন সাহাবী যথেষ্ট হতো। সবাইকে যখন হুকুম দিলেন দাঁড়ানোর জন্যে এবং سَيِّدِكُمْও বলেছেন, তখন বুঝা গেল যে, এ ক্বিয়াম ‘তা’যীমী ক্বিয়াম। সুতরাং এ ক্বিয়াম এমদাদ বা সাহায্য করার ক্বিয়াম নয়। যাঁরা উপরোক্ত বাক্য ব্যবহৃত الىশব্দ দ্বারা ধোঁকা দিয়ে বলেন যে এ দাঁড়ানোটা ছিল রোগীর সাহায্যার্থে, তারা তাহলে এ আয়াতে কি বলনে- اِذَاقُمْتُمْ اِلى الصَّلوةِ (যখন আপনারা নামাযের জন্য দাঁড়াবেন।) নামাযও কি তাহলে রোগী যে এর সাহায্যার্থে দাঁড়াতে হয়? কিন্তু নামাযের সাহায্যের প্রয়োজন নেই; যেহেতু, নামায রোগী নয়; কাজেই নামাযের সম্মানের জন্য কথাটা বলা হয়েছে। আশআতুল লুমআত গ্রন্থে উপরোক্ত হাদীছ প্রসংগে বর্ণিত আছে- এখানে হযরত সাআদের প্রতি তাযীম করানোর রহস্য হচ্ছে যে তাঁকে বনি কুরায়জার উপর শাসন করার জন্য ডাকা হয়েছিল। তাই এ জায়গায় তার শান-মান প্রকাশের সঠিক সময় ও প্রয়োজন ছিল। আশআতুল লুমআত কিতাবুল আদাবের কিয়াম শীর্ষক অধ্যায়ে- قوْمُوْا اِلى سَيِّدِ كُمْ এর ব্যাখ্যা প্রসংগে উল্লেখিত আছে- এ হাদীছের পরিপ্রেক্ষিতে অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম পুণ্যাত্মা উলামায়ে কিরামের তাযীম করার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষন করেন। ইমাম নববী বলেন যে বুযুর্গানে কিরামের তাশরীফ আনয়নের সময় দাঁড়ানো মুস্তাহাব। এর সমর্থনে অনেক হাদীছ রয়েছে কিন্তু এর নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে সুষ্পষ্ট কোন হাদীছ নেই। ‘কীনা’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে যে আগমনকারী কারো সম্মানার্থে বসে থাকা লোকের দাঁড়িয়ে যাওয়া মাকরূহ নয়। ফতওয়ায়ে আলমগীরী কিতাবুল কারাহিয়ার ملاقات الملوك শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত আছে- تُجُوْزُ الْخِدْمَةُ بِغَيْرِ اللهِ تَعَالى بِالْقِيَامِ وَاَخَذِ الْيَدَيْنِ وَالْاِنْحِنَاءِ খোদা ভিন্ন অন্য কাউকে দাড়িয়ে, করমর্দন করে বা নত হয়ে সম্মান করা জায়েয। এখানে নত হওয়া বলতে রুকু থেকে কম নত হওয়াকে বুঝানো হয়েছে। কেননা রুকু পর্যন্ত নত হওয়াতো নাজায়েয। তাছাড়া, ‘মিশকাত শরীফ, বাবুল ক্বিয়াম’-এ আছে হযরত আবূ হোরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত- فَاِذَا قَامَ قُمْنَا قِيَامًا حَتّى نَرَاهُ قَدْ دَخَلَ بَعْضَ بُيُوْتِ اَزْوَاجِهٖ অর্থাৎ হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম যখন কোন মজলিসে দাঁড়াতেন, তখন আমরাও তাঁর সম্মানার্থে দাঁড়াতাম, যতক্ষণ না তিনি কোন বিবি সাহেবার হুজুরায় প্রবেশ করতেন। আদ র্দুরে মুখতার ৫ম খন্ড, বাবুল ইসতেবরায় বর্ণিত আছে- يَجُوْزُ بَلْ يَنْدُبُ الْقِيَامُ تَعْظِيْمًا لِلْقَادِمِ يَجُوْزُ الْقِيَامُ وَلَوْلِلْقَارِىْ بَيْنَ يَدَىِ الْعَالِمِ অর্থাৎ কোন আগমনকারীর সম্মানার্থে দাঁড়ানো মুস্তাহাব। এমনকি কোন ক্বোরআন তেলওয়াতকারীর সম্মুখে কোন সঠিক সুন্নি আক্বিদাসম্পন্ন আলেমে দ্বীন আসলে তাঁর সম্মানার্থে দাঁড়ানো জায়েয তথা মুস্তাহাব। ‘রদ্দুল মুহতার’ (ফতাওয়া-ই শামী), ১ম খন্ড, বাবুল ইমামত-এ আছে, যদি কেউ মসজিদের প্রথম সারিতে বসে জামা‘আতের অপেক্ষা করে, এমতাবস্থায় যদি কোন সুন্নী আলেম আসেন, তবে তাঁর জন্য স্থান ত্যাগ করে পেছনে চলে আসা মুস্তাহাব। কেননা, তাঁর জন্য প্রথম সারিতে নামায পড়ার চেয়ে এ সুন্নী আলিমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন উত্তম। যেমন হযরত আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু নামাযরত অবস্থায় জায়নামায হতে ইমামতি ত্যাগ করে হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর সম্মানার্থে পেছনে সরে আসেন। ‘মুসলিম শরীফ, ২য় খন্ড’ বাবূ হাদীসি তাওবাতি ইবনে মালেক’-এঁর মধ্যে আছে- فَقَامَ طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ يُهَرَوِلُ حَتّى صَافَحَنِىْ وَهَنَّأَنِىْ অর্থাৎ হযরত তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ্ দাঁড়িয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে মুসাফাহা করলেন এবং আমাকে মুবারকবাদ দিলেন। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, فِيْهِ اِسْتِحْبَابُ مُصَافَحَةِ الْقَادِمِ وَالْقِيَامِ لَه اِكْرَامًا اِلى لِقَآئِه অর্থাৎ আগমনকারীর জন্য মুসাফাহা করা তাঁর সম্মানার্থে দাঁড়ানো এবং সাক্ষাতের জন্য একটু দ্রুত যাওয়া মুস্তাহাব। মিরক্বাত শরহে মিশকাত بَابُ الْمَشْىِ بِالْجَنَازَةِ -এর মধ্যে ২য় অধ্যায়ে বর্ণিত আছে যে, وَفِيْهِ اِيْمَاءٌ اِلى نُدُبِ الْقِيَامِ لِتَعْظِىْمِ الْفُضَلآءِ الْكُبَرَآءِ অর্থাৎ এতে এদিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে, কোন সম্মানিত ব্যক্তির জন্য তা’যীমী ক্বিয়াম মুস্তাহাব। সাহাবা-ই কেরাম তথা সলফে সালেহীন থেকে এ সুন্নাত বা প্রথা চালু আছে যে, কোন সুসংবাদ শুনলে তাঁরা দাঁড়িয়ে যেতেন। তাছাড়া যখন নিজের কোন প্রিয়জন আসে, তখন এর আগমনের আনন্দে দাঁড়িয়ে যাওয়া, হাত পা ইত্যাদি চুমু দেয়া সুন্নাত। মিশকাত শরীফের কিতাবুল আদব المصافحة শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত আছে যে হযরত যায়েদ ইবনে হারেছা (রা:) মুস্তাফা আলাইহিস সালামের পবিত্র দরজার সামনে আসলেন এবং দরজার কড়া নাড়লেন। فَقَامَ اِلَيْهِ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَرْيَانًا فَاَعْتَنَقَهُ وَقَبَّلهُ হুযুর আলাইহিস সালাম চাদর বিহীন অবস্থায় তাঁর প্রতি দাঁড়িয়ে গেলেন। অত:পর কোলাকুলি করলেন এবং চুমু খেলেন। একই অধ্যায়ে আরও বর্ণিত আছে যে যখনই হযরত খাতুনে জান্নাত ফাতিমা যুহরা (রা:) হুযুর আলাইহিস সালামের সমীপে হাযির হতেন- قَام اِلَيْهَا فَاَخَذَ بِيَدِهَا فَقَبَّلَها وَاَجْلَسَهَا فِىْ مَجْلِسِه তখন তাঁর জন্য দাঁড়িয়ে যেতেন, হাত ধরে হাত চুমু খেতেন এবং নিজের জায়গায় তাঁকে বসাতেন। অনুরূপ হুযুর আলাইহিস সালাম যখন হযরত ফাতিমা যুহরা (রা:) এর কাছে তশরীফ নিয়ে যেতেন, তখন তিনি (ফাতিমা) ও দাঁড়িয়ে যেতেন, দস্ত মুবারকে চুমু খেতেন এবং স্বীয় জায়গায় হুযুর আলাইহিস সালামকে বসাতেন। মিরকাতالمشئ بالجنازة অধায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আছে- وَفِيْهِ اِيْمَاءٌ اِلَى نُدُبِ الْقِيَامِ لِتَعْظِيْمِ الْفُضَلَاءِ وَالْكُبَرَاءِ জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিদের সম্মানে দাঁড়ানো জায়েয। তদুপরি যখন কোন প্রিয়জনের কথা শুনে বা অন্য কোন শুভ সংবাদ পায়, তখন সে সময় দাঁড়িয়ে যাওয়া মুস্তাহাব এবং সাহাবা ও পূর্ববর্তীগণের সুন্নাত। মিশকাত শরীফের কিতাবুল ঈমানের তৃতীয় পরিচ্ছেদে হযরত উছমান (রা:) থেকে বর্ণিত আছে, আমাকে হযরত সিদ্দিক আকবর (রা:) যখন একটি শুভ সংবাদ শোনলেন- فَقمْتُ اِلَيْهِ وَقُلْتُ بِاَبِىْ اَنْتَ وَاُمِّىْ اَنْتَ اَحَق بِهَا তখন আমি দাঁড়িয়ে গেলাম এবং বললাম আপনার প্রতি আমার মা-বাপ কুরবান, আপনিই এর উপযোগী। তাফসীরে রুহুল বয়ানে ২২ পারায় সূরা ফাতহের আয়াত محمد رسول الله এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে উল্লেখিত আছে যে, ইমাম তকিউদ্দিন সুবকী (র:) এর দরবারে উলামায়ে কিরামের একটি দল উপস্থিত ছিলেন। একজন না’ত আবৃত্তিকারী দুটি না’ত পাঠ করলেন- فَعِنْدَ ذَالِكَ قَامَ الْاِمَامُ السُّبْكِىُّ وَجَمِيْعُ مَنْ فِىْ الْمَجْلِسِ فَحصَلَ اَنْس عَظِيْمٌ بِذَالِكَ الْمَجْلِسِ তখন সাথে সাথে ঈমাম সুবকী ও মজলিসে আগত সবাই দাঁড়িয়ে গেলেন এবং তাতে বেশ আনন্দ পাওয়া গেল। তাছাড়া কোন কাফির যিনি স্বীয় সম্প্রদায়ের নেতা, যদি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের প্রতি আগ্রান্বিত হন, তাহলে তাঁর আগমনে তাঁর সম্মানার্থে দাঁড়ানো সুন্নাত। যেমন- হযরত উমর (রা:) যখন ইসলাম গ্রহন করার জন্য হুযুর (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর খিদমতে হাযির হলেন, তখন হুযুর আলাইহিস সালাম তাঁকে (দাঁড়িয়ে গিয়ে) নিজের পবিত্র বুকের সাথে লাগালেন (ইতিহাস গ্রন্থ দ্রষ্টব্য) । ফতওয়ায়ে আলমগীরীর কিতাবুল কারাহিয়া শীর্ষক اهل الذمة অধ্যায়ে উল্লেখিত আছে- اِذَدَخَلَ ذِمِّى عَلى مُسْلِمِ فَقَامَ لَه طمعًا فِىْ اِسْلَامِه فَلَا بَأَسَ কোন যিম্মি কাফির মুসলমানের কাছে আসলো, মুসলমান তার ইসলাম গ্রহণের আশায় তার সম্মানে দাঁড়িয়ে গেলেন, এটা জায়েয। পাঁচ. ক্বিয়াম-ই মাকরূহ: তা হলো ঝমঝম শরীফের ও ওযূর অবশিষ্ট পানি ব্যতীত অন্য কোন পানি দাঁড়িয়ে পান করা এবং কোন দুনিয়াবী সম্মানের জন্য দন্ডায়মান হওয়া (দুনিয়ার লালসায় দাঁড়ানো) মাকরূহ। হ্যাঁ, যদি কোন ওযর থাকে তখন মাকরূহ হবে না। যেমন- ফাতাওয়া-ই আলমগীরী: كِتَابُ الْكَرَاهِيَّةِ (কিতাবুল কারাহিয়্যাহ)-এঁর মধ্যে আছে- وَاِنْ قَامَ لَه مِنْ غَيْرِ اَنْ يَّنْوِىَ شَيْئًا مِمَّا ذَكَرْنَا اَوْ قَامَ طَمْعًا لِغِنِاهُ অর্থাৎ আর যদি কেউ আমাদের উল্লিখিত বিষয়াদি থেকে কোন একটার নিয়্যত করা ছাড়া অথবা তার ধনী হবার কারণে দাঁড়ানো মাকরূহ। প্রথমত: যমযম ও ওযুর পানি ব্যাতীত অন্যান্য পানি পান করার সময় বিনা কারণে দাঁড়ানো মাকরূহ। দ্বিতীয়ত : পার্থিব লালসায় বিনা কারণে দুনিয়াবী লোকের সম্মানে দাঁড়ানো মাকরূহ। তৃতীয়ত: ধন-দৌলতের কারণে কাফিরের সম্মানার্থে দাঁড়ানো মাকরূহ। ফতওয়ায়ে আলমগীরীর কিতাবুল কারাহিয়া শীর্ষক اهل الذمة অধ্যায়ে বর্ণিত আছে- وَاِنْ قَامَ لَهُ مِنْ غَيْرِ اَنْ يَّنْوِىَ شَيْئًا مِمَّا ذَكَرْنا اوْ قَامَ طَمْعًا لِغِنَاهُ كُرِهَ لَهَ ذَالِكَ যদি কারো জন্য উল্লেখিত অবস্থাদি ব্যতিত দাঁড়ানো হয় বা সম্পদের লালসায় দাঁড়ানো হয়, তাহলে তা মাকরূহ হবে। চতুর্থত: যে ব্যক্তি নিজের তাযীমের জন্য লালায়িত, তার সম্মানার্থে দাঁড়ানো নিষেধ। পঞ্চমত: যদি কোন বড় লোক মাঝখানে বসা অবস্থায় আছে এবং তার চারদিকে বিনীতভাবে মানুষ দাঁড়িয়ে রইল। এ ধরনের দাঁড়ানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিজের জন্য কারো দাঁড়িয়ে থাকা পছন্দ করাটাও নিষেধ। উপরোক্ত বিশ্লেষন থেকে এটা নি:সন্দেহে জানা গেল যে মীলাদ শরীফে পবিত্র বেলাদতের আলোচনা করার সময় কিয়াম করাটা সাহাবায়ে কিরাম ও পূর্ববর্তী নেককার বান্দাদের থেকে প্রমাণিত রয়েছে। উপরে সুন্নাত কিয়ামের বর্ণনায় সে ধরণের কিয়ামের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা কোন খুশির সংবাদ পেয়ে বা কোন প্রিয়জনের আলোচনার সময় করা হয় এবং উপরে প্রথম পর্যায়ে ওই ধরনের কিয়ামের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা ধর্মীয় মর্যাদাশীল কোন জিনিসের সম্মানে করা হয়। সুতরাং, মীলাদ শরীফে কিয়াম কয়েক কারণে সুন্নাত। প্রথমত: এটা পবিত্র বেলাদাতের আলোচনার সম্মানে করা হয়। দ্বিতীয়তঃ এ জন্য যে, মুসলমানদের জন্য যিকরে বিলাদতের চেয়ে বড় খুশির বিষয় আর কি হতে পারে আর খুশির সংবাদে দাঁড়ানো সুন্নাত। তৃতীয়ত: মুসলমানের কাছে নবী করীম (صلى الله عليه و آله و سلم) থেকে বেশী প্রিয় আর কে আছে? মা-বাপ, ধন-সম্পদ ইত্যাদি সব কিছু থেকে বেশি প্রিয়ভাজন হচ্ছেন হুযুর আলাইহিস সালাম। তাঁর (صلى الله عليه و آله و سلم) যিকরের সময় দাঁড়ানো পূর্বসূরী নেকবান্দাদের সুন্নাত। চতুর্থত: পবিত্র বেলাদতের সময় ফিরিশতাগণ দুয়ারে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এজন্য পবিত্র বেলাদতের আলোচনার সময় দাঁড়ানো ফিরিশতাদের কাজের সাথে মিল রয়েছে। পঞ্চমত: হুযুর আলাইহিস সালাম স্বীয় গুনাবলী ও বংশ পরিচয় মিম্বরে দাঁড়িয়ে বর্ণনা করেছেন। এতে কিয়ামের মুল বৈশিষ্ট পাওয়া যায়। যষ্ঠত: শরীয়ত একে নিষেধ করেনি এবং প্রত্যেক দেশে সাধারণ মুসলমানগণ একে ছওয়াবের কাজ মনে করে পালন করে। যে কাজটা মুসলমানগণ ভাল মনে করে, সে কাজ আল্লাহর কাছেও ভাল বলে গণ্য। অধিকন্তু মুসলমান যে কাজটাকে মুস্তাহাব হিসেবে জানে, শরীয়তেও তা মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য। ফতওয়ায়ে শামীর তৃতীয় খন্ড কিতাবুল ওয়াকফের وقف منقولات শীর্ষক আলোচনায় বর্ণিত আছে- لِاَنَّ التُّعَامَلَ يُتْرَكُ بِه الْقِيَاسُ لِحَدِيْثِ مَارَأَه الْمُؤْمِنُوْنَ حَسَنًا فَهُوَ عِنْدَ اللهِ حَسَن ডেকসি, জানাযার খাটিয়া ইত্যাদির ওয়াকফ ধারণামত নাজায়েয হওয়ার কথা। কিন্তু যেহেতু সাধারণ মুসলমানগণ এর অনুসারী, সেহেতু কিয়াসকে বাদ দেয়া হয়েছে এবং ওটাকে জায়েয বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। দেখুন, সাধারণ মুসলমানগণ যে কাজটা ভাল মনে করে এবং এর হারাম হওয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট দলীল না থাকে, তখন কিয়াসকে বাদ দেয়া প্রয়োজন। দুররূল মুখতারের পঞ্চম খন্ড কিতাবুল ইজারাতের اجارة الفاسده অধ্যায়ে উল্লেখিত আছে- স্নানাগার ভাড়া দেয়া জায়েয, কেননা হুযুর আলাইহিস সালাম হাজফা শহরের স্নানাগারে তশরীফ নিয়ে গিয়েছিলেন এবং এজন্য এটা প্রচলন হয়ে গেছে। হুযুর আলাইহিস সালাম ফরমান, যেটা মুসলমানগণ ভাল মনে করেন, সেটা আল্লাহর কাছেও ভাল। এর প্রেক্ষাপটে ফতওয়ায়ে শামীতে উল্লেখিত আছে যে হুযুর আলাইহিস সালামের হাজফা শহরের স্নানাগারে প্রবেশ করার বর্ণনাটি খুবই দুর্বল। কেউ কেউ একে মওজু বা বানাওট হাদীছ বলেছেন। সুতরাং, স্নানাগার জায়েয হওয়ার একটি মাত্র দলীল অবশিষ্ট রইল অর্থাৎ সাধারণভাবে প্রচলনটাতো প্রমাণিত হলো। মুসলমানগণ যে কাজটা সাধারণভাবে বৈধ মনে করে, তা জায়েয। একই জায়গায় ফাতাওয়ায়ে শামীতে আরও উল্লেখ আছে- لِاَنَّ النَّاسَ فِىْ سَائِرِ الْاَمْصَارِ يَدْفَعُوْنَ اُجْرَةَ الْحَمَّامِ فَدَلَّ اِجْمَاعُهُمْ عَلى جَوازِ ذَالِكَ وَاِنْ كَانَ الْقِيَاسُ يَابَاهُ কেননা সব শহরগুলোতে মুসলমানগণ স্নানাগারের ফি দিয়ে থাকেন। সুতরাং তাদের ঐক্যমতের কারণে জায়েয হওয়াটা বোঝা গেল, যদিওবা এটা কিয়াসের বিপরীত। কিয়াস অনুসারে স্নানাগারের ফি নাজায়েয হওয়াটাই বাঞ্চনীয়। কেননা কতটুকু পানি ব্যবহার হবে তা জানা যায় না। অথচ ভাড়ার ব্যাপারে লাভ ক্ষতি সম্পর্কে জানাটা প্রয়োজন। কিন্তু যেহেতু মুসলমানগণ সাধারণভাবে একে জায়েয মনে করে, সেহেতু এটা জায়েয। মীলাদ শরীফে কিয়াম করাটা সর্বসাধারণ মুসলমানগণ মুস্তাহাব মনে করেন। সুতরাং এটা মুস্তাহাব। সপ্তমত: এ জন্য যে, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ ফরমান – وَتُعَزِّرُوْاهُ وَتَوقِّرُوْاهُ “(হে মুসলমানগণ আমার নবীকে সাহায্য কর ও তাঁকে সম্মান কর)” তাযীমের বেলায় কোন বাঁধা ধরা নিয়ম নেই, বরং যে যুগে বা যে জায়গায় তাযীমের যে রীতি প্রচলিত, সেভাবে তাযীম করুন, যদি শরীয়ত একে হারাম না করে থাকে। যেমন তাযীমী সিজদা ও রুকু করা হারাম। আমাদের যুগে রাজকীয় হুকুমাদিও দাঁড়িয়ে পাঠ করা হয়। সুতরাং হুযুর আলাইহিস সালামের যিকরও দাঁড়িয়ে করা চাই। দেখুন- كُلُوْا وَاشْرَبُوْا (খান ও পান করুন) বাক্যে শর্তহীনভাবে খানা পিনার অনুমতি রয়েছে অর্থাৎ প্রত্যেক হালাল আহার্য গ্রহন করুন। তাই বিরানী, জরদা, কোরমা ইত্যাদি সবই কুরূনে ছালাছায় থাকুক বা না থাকুক হালাল। এ রকম توقرواه শব্দেও শর্তহীন নির্দেশ রয়েছে যে প্রত্যেক প্রকারের বৈধ তাযীম করুন কুরূনে ছালাছা থেকে এটা প্রমাণিত হোক বা না হোক। অষ্টমত: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ ফরমান- وَمَنْ يُعَظِّمُ شَعَائِرَ اللهِ فَاِنهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوْبِ “যে ব্যক্তি আল্লাহর নিশানা সমূহের সম্মান করে, তা হবে আত্মার সংযমশীলতার বহি:প্রকাশ”। তাফসীরে রূহুল বয়ানে আয়াত- وَتَعَاوَنُوْا عَلَى البِّرِّ وَالتَّقْوى وَلَا تَعَاوَنُوْا عَلَى الْاِثْمِ وَالْعُدْوَانِ এর ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছে যে, যে জিনিসটা ধর্মীয় মর্যাদা লাভ করেছে, তা আল্লাহর নিশানা সমূহের অন্তর্ভূক্ত, সে সবের সম্মান করা প্রয়োজন। যেমন- বিশেষ মাস, কোন বিশেষ দিন বা স্থান সমূহ, কোন বিশেষ নিদৃষ্ট সময় ইত্যাদি। এ জন্যই সাফা-মারওয়া, কাবা মুয়াজ্জমা, মাহে রমজান, শবে কদরের তাযীম করা হয়। যিকরে বিলাদতও আল্লাহর নিশানাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। অতএব এর তাযীমও করনীয়, যা কিয়ামের মাধ্যমে আদায় হয়। কিয়াম মুস্তাহাব হওয়াটা প্রমাণিত হলো। কিন্তু বিরোধিতাকারীদের কাছে খোদার রহমতে হারাম প্রমাণ করার একটি ধলীলও নেই। কেবল স্বীয় মনগড়া অভিমত দ্বারাই হারাম বলেন। ছয়. ক্বিয়াম-ই হারাম: আর তা হলো- যে ব্যক্তি চায় যে, তাকে সম্মান করা হোক, তার জন্য দাঁড়ানো হারাম। তাছাড়া, মূর্তির তা’যীমের জন্য দন্ডায়মান হওয়াও হারাম। পর্যালোচনাঃ উপরোল্লিখিত ক্বিয়ামসমূহের মধ্যে চতুর্থ প্রকারের ক্বিয়াম সাহাবা-ই কেরাম ও সলফে সালেহীনের সুন্নাত হিসেবে সাব্যস্ত। অর্থাৎ কোন সুসংবাদ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দন্ডায়মান হওয়া সাহাবা-ই কেরাম ও সলফে সালেহীনের সুন্নাত সাব্যস্ত হয়েছে। সে অনুপাতে মিলাদ শরীফে হুযূর-ই আক্রামের বেলাদতে পাকের আলোচনা করার পর এ সুসংবাদ শুনার সাথে সাথে ক্বিয়াম করা সাহাবা ও সলফে সালেহীনের সুন্নাত হিসাবে সাব্যস্ত হয়েছে। কেননা, হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র বেলাদত শরীফের সুসংবাদ হতে বড় সুসংবাদ আর কি হতে পারে? পাশাপাশি কোন দ্বীনি সম্মানিত বস্তুর সম্মানের জন্য ক্বিয়াম করার কথাও উপরে উল্লেখ ক
|