শিরোনাম: |
১২(বার)-ই রবিউল আউয়াল কি মীলাদুন্নবী ﷺ , না ওফাতুন্নবী ﷺ
মাহমুদ হাছান
|
![]() ১২(বার)-ই রবিউল আউয়াল কি মীলাদুন্নবী ﷺ , না ওফাতুন্নবী ﷺ বারই রবিউল আউয়াল শরীফে বিশ্বের সমস্ত মুসলিম তাঁদের ত্রাণকর্তা ও দয়ালু আক্বা হযরত আহমদ মুজতাবা মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর বেলাদত শরীফের খুশী উদযাপন করে আসছেন। আর এ জন্যই আপন প্রতিপালকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, তিনি এ ঐতিহাসিক দিনে তাঁর সর্বাপেক্ষা বৃহৎ নি’মাতরূপে বিশ্বকুল সরদার সাল্লাল্লাহু তা‘য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছেন। কিন্তু মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর খুশী উদযাপনকে বিদ্‘আত মনে করে এবং ওই মহান দিনে ও মাসে ‘সিরাতুন্নবী’ ইত্যাদি বিকল্প নাম আবিষ্কার করে মিলাদুন্নবী’র গুরুত্বকে খাঁটো করে দেখানোর অপচেষ্টা চালায় এমন কিছুলোক গত কয়েক বছর ধরে এক্ষেত্রে আরেকটা বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে। বিরোধীতাকারীরা ১২ রবিউল আউয়ালকে ‘বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু তা‘য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর ওফাত দিবস (ওফাতুন্নবী) হিসেবেও চিহ্নিত করে ‘মিলাদুন্নবী’র খুশী উদযাপনের দিক থেকে মুসলিম সমাজের ধর্মীয় অনুভূতিকে অন্যদিকে ফেরানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এ কয়েক বছর থেকে আমাদের দেশের প্রচার মাধ্যমগুলোতেও ১২ রবিউলের ওই দিবসের তাৎপর্য উল্লেখ করতে গিয়ে ‘মিলাদুন্নবী’-এঁর সাথে ‘ওফাতুন্নবী’ (ওফাত দিবস) শব্দটির সংযোজন করতে দেখা ও শুনা যাচ্ছে। অথচ ওফাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সর্বসম্মতভাবে সোমবার হলেও ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। এ নিবন্ধে আমরা একথাই প্রমাণিত করার প্রয়াস পাচ্ছি, ১২ রবিউল আউয়াল শরীফ হচ্ছে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু তা‘য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র বেলাদতেরই দিন (মীলাদুন্নবী); ওফাতের তারিখ নয়। তাই ওই তারিখে আহলে সুন্নাত তথা বিশ্ব মুসলিম নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর পবিত্র বেলাদত বা জন্মের খুশীই উদযাপন করে আসছেন। বস্তুত এটাই তাঁদের যথাযোগ্য পদক্ষেপ এবং পবিত্র ক্বোরআন, সুন্নাহ্, ইজমা এবং গ্রহণযোগ্য ক্বিয়াস সম্মত অতীব বরকতময় কাজ। ![]() ১২(বার)-ই রবিউল আউয়াল কি মীলাদুন্নবী ﷺ , না ওফাতুন্নবী ﷺ =।।এক।।= ১২ রবিউল আউয়াল হচ্ছে ‘পবিত্র মিলাদ’-এর দিনঃ সত্যের মাপকাঠি সাহাবা কেরাম থেকে বিশুদ্ধরূপে বর্ণিত হয়েছে, ১২ রবিউল আউয়াল শরীফ বিশ্বনবী হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র বেলাদতেরই দিন। যেমন হাফেয আবূ বকর ইবনে আবী শায়বাহ্ (ওফাত ২৩৫হিজরি) সহীহ্ সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন- عَنْ عَفَّانٍ عَنْ سَعِیْدِبْنِ مِیْنَا عَنْ جَابِرٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ اَنَّہُمَا قَالاَ وُلِدَ رَسُوْلُ اللّٰہِ صَلَّی اللّٰہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِیْلِ یَوْمَ الْاِثْنَیْنِ الثَّانِیْ عَشَرَ مِنْ شَہْرِ رَبِیْعِ الْاَوَّلِ অর্থাৎ হযরত আফ্ফান থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত সা‘ঈদ ইবনে মীনা থেকে বর্ণনা করেছেন, হযরত জাবের ও হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা বলেন, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর বেলাদত শরীফ ঐতিহাসিক ‘হস্তি বাহিনী বর্ষের’ (যে বছর আবরাহা তার হস্তিবাহিনী নিয়ে কা’বা শরীফ ধবংস করতে এসে নিজে ধবংসপ্রাপ্ত হয়েছিলো) ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার হয়েছিলো। [সূত্র: বুলূগুল আমানী ফী শরহিল ফাত্তিহর রব্বানীঃ ২য় খণ্ডঃ ১৮৯ পৃ. বৈরুতে মুদ্রিত এবং আল-বিদায়াহ্ ওয়ান্ নিহায়াহঃ ২য় খণ্ডঃ ২৬০ পৃ. বৈরুতে মুদ্রিত।] উক্ত বর্ণনার ‘সনদ’-এর মধ্যে প্রথম বর্ণনাকারী হযরত আফ্ফান সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণ বলেছেন, ‘‘আফ্ফান একজন উচ্চ পর্যায়ের নির্ভরযোগ্য ইমাম, প্রবল স্মরণশক্তি ও দৃঢ় প্রত্যয়সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব।’’ [সূত্র: খোলাসাতুত্ তাহযীব’ ২৬৮পৃ. বৈরুত মুদ্রিত।] ‘‘২য় বর্ণনাকারী সা‘ঈদ ইবনে মীনা। তিনিও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।’’ [সূত্র: খোলাসাহঃ ১৪৩ পৃষ্ঠা এবং ‘তাক্বরীব’ ১২৬ পৃ.।] এ দু’জন উচ্চ পর্যায়ের ফক্বীহ্ সাহাবীর বিশুদ্ধ সনদসহকারে বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হলো, ১২ রবিউল আউয়াল হচ্ছে হুযূর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র ‘মিলাদ দিবস’। সুতরাং পরবর্তী যুগগুলোর কোন ইতিহাস লেখকের ভিন্নকথা এবং ধারণা বা অনুমান উক্ত বিশুদ্ধ বর্ণনার মোকাবেলায় দৃষ্টিপাতযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অতএব, হযরত যোবায়র ইবনে বাক্কার, ইমাম ইবনুল আসাকির, ইমাম জামাল উদ্দীন ইবনে জূযী এবং ইবনুল জাযযার প্রমুখ ১২ রবিউল আউয়াল ‘বিশ্বনবীর মিলাদ দিবস’ হওয়াই নির্ভরযোগ্য ও সেটার উপর গবেষক ইমামদের ‘ইজমা’ (ঐকমত্য) প্রতিষ্ঠিত হবার কথা ঘোষণা করেছেন। [সুত্র: ‘সীরাত-ই হালবিয়াহঃ ১ম খণ্ডঃ ৯৩ পৃ, যারক্বানী আলাল মাওয়াহিবঃ ১ম খণ্ডঃ ১৩২ পৃ, ‘মা-সাবাতা মিনাস্ সুন্নাহ্, কৃত. শায়খ আল-মুহাক্বক্বিক্ব দেহলভীঃ ৯৮পৃ, ‘শামামাহ্-ই আম্বরিয়াহ্’ পৃ. -৭, কৃত. নাওয়াব সিদ্দীক্ব হাসান খান ভূপালী আহলে হাদীস।] ‘‘আর এটাই হচ্ছে প্রায় সব ওলামা ও মুসলমানের অনুসৃত পথ ও মত। এটাই তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ।’’ [সূত্রঃ আল-বিদায়াঃ২য় খণ্ডঃ ২৬০ পৃ, আল-ফত্হুর রব্বানীঃ ২য় খণ্ডঃ ১৮৯ পৃ, আল-মাওরেদ আর-রাভী; কৃত. মোল্লা আল-ক্বারীঃ পৃ. ৯৬, মক্কা মুকাররামায় মুদ্রিত, ‘হাজ্জাতুল্লাহি আলাল্ আলামীন’, কৃত. আল্লামা নাবহানীঃ প্রথম খণ্ড ৭৩১ পৃ, ‘মা-সাবাতা মিনাস্ সুন্নাহ্’ ৯৮ পৃষ্ঠা, ‘আল-মাওয়াহিব-আল-লাদুন্নিয়াহ’, কৃত. ইমাম ক্বাস্তলানী এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ যারক্বানীঃ ১ম খণ্ডঃ ১৩২পৃ. ‘মাদারিজুন্নবূয়ত’, ২য় খণ্ড ১৪পৃ.।] ‘‘১২ রবিউল আউয়াল ‘মিলাদ দিবস’ হবার প্রাচীন ও আধুনিক উভয় যুগের মক্কাবাসী ঐকমত্য পোষণ করে আসছেন। এ তারিখেই হুযূরের বেলাদতের পবিত্র স্থানে হাযির হয়ে মিলাদ শরীফ উদ্যাপনের নিয়ম প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে।” [সূত্র: আল-মাওয়াহিব-আল-লাদুন্নিয়াহ ও ‘যারক্বানী’ ১ম খণ্ডঃ ১৩২ পৃঃ ‘সীরাতে হালবিয়াহ’, ১ম খণ্ডঃ ৯৩ পৃঃ ‘আল-মাওরেদ র্আ-রাভী’, কৃত. মোল্লা আলী আল-ক্বারীঃ ৯৫ পৃষ্ঠা, ‘মা-সাবাতা মিনাস্ সুন্নাহঃ ৯৮ পৃ, তাওয়ারীখ-ই হাবীব-ই ইলাহ্, যা মৌলভী আশরাফ আলী থানভী সাহেবের নিকটও প্রশংসিত। ‘মাদারিজুন্নুবূয়ত’ ২য় খণ্ড ১৪ পৃ. ইত্যাদি।] ‘‘১২ রবিউল আউয়াল শরীফ ‘মীলাদুন্নবী’ উদযাপনের রীতি মদীনাবাসীদের মধ্যেও চলে এসেছে।’’ [সূত্র: ‘তাওয়ারীখ-ই হাবীব-ই ইলাহ্’] ‘‘এ তারিখেই সমস্ত শহরে মুসলমানদের ‘জশনে মিলাদ’ উদ্যাপনের নিয়ম রয়েছে।’’ [সূত্র: সীরাতে হালবিয়্যাহ ১ম খণ্ডঃ ৯৩ পৃ, ‘যুরক্বানী আলাল মাওয়াহিব’ঃ ১ম খণ্ডঃ ১৩২ পৃষ্ঠা] প্রাচীন যুগের মক্কাবাসীদের মধ্যে প্রচলিত নিয়মের সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ মুহাদ্দিস ইবনুল জূযী (ওফাতঃ ৫৯৭ হি.) বলেছেন, ‘‘হেরমাঈন শরীফাঈন (মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ), মিশর, সিরিয়া, সমস্ত আরব দেশ এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মুসলমানদের মধ্যে পুরানা যুগ থেকে এ নিয়মই চলে এসেছে যে, রবিউল আউয়ালের চাঁদ দেখতেই তাঁরা মিলাদ শরীফের মাহফিলসমূহ আয়োজন করতেন, খুশী উদ্যাপন করতেন, গোসল করতেন, উন্নত মানের পোশাক পরিধান করতেন, বিভিন্ন ধরনের সাজসাজ্জা করতেন, খুশ্বু লাগাতেন, এ দিনগুলোতে (রবিউল আউয়াল) খুব খুশী ও আনন্দ প্রকাশ করতেন, সামর্থ্যানুসারে লোকজনের জন্য টাকা-পয়সা ও জিনিসপত্র খরচ করতেন এবং মিলাদ শরীফ পাঠ ও শ্রবণের প্রতি পূর্ণাঙ্গ গুরুত্ব দিতেন। এরই মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে মহান প্রতিদান ও মহা সাফল্যাদি অর্জন করতেন। মিলাদ শরীফের খুশী উদযাপনের পরীক্ষিত বিষয়াদির উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- গোটা বছর অধিক পরিমাণে কল্যাণ ও বরকত, সুখ ও শান্তি, জীবিকা, মাল-দৌলত এবং আওলাদে আধিক্য লাভ হয়। আর শহরগুলোতে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি এবং ঘর-বাড়িতে অনাবিল শান্তি জশনে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এরই বরকতে বিরাজমান থাকে।’’ [সূত্র: ‘বয়ানুল মীলাদিন্নবভী’, কৃত. ইবনে জূযীঃ ৫৭ ও ৫৮ পৃ.] ইমাম আহমদ ক্বাস্তলানী রহঃ বলেছেন- ‘‘আল্লাহ্ তা’আলা অসংখ্য রহমত নাযিল করুন ওই ব্যক্তির উপর, যে মিলাদ-ই পাকের মাস রবিউল আউয়াল-এর রাতগুলোকে ঈদের এমন খুশীর রাতে পরিণত করে যে, যার অন্তরে শানে রেসালতের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষের রোগ-ব্যাধি রয়েছে তার অন্তরের উপর ক্বিয়ামত সংঘটিত হয়ে যায়।’’ [সূত্র: ‘আল-মাওয়াহিব’ যারক্বানীসহ ১ম খণ্ড ১৩৯ পৃ.।] মোল্লা আলী ক্বারী (ওফাত ১০১৪ হিঃ) হানাফী রহঃ বলেছেন- اَمَّا اَہْلُ مَکَّۃَ یَزِیْدُ اِہْتِمَامَہُمْ بِہٖ عَلٰی یَوْمِ الْعِیْدِ অর্থাৎ ‘‘মক্কাবাসীগণ মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম শরীফের প্রতি গুরুত্ব ঈদ অপেক্ষাও বেশী দিতেন।’’ [সূত্র: ‘আল-মাওরেদ-আর রাভী’, মক্কা মুকাররামাহ্য় মুদ্রিত: ২৮ পৃ.।] শাহ্ ওয়ালী উল্লাহর পর্যবেক্ষণঃ শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ্ মুহাদ্দিস দেহলভী বলেছেন, ‘‘আমি একবার মক্কা মু‘আয্যমায় মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর পবিত্র জন্মের স্থানে উপস্থিত ছিলাম। তখন লোকেরা হুযূরের ওই সব মু’জিযা বর্ণনা করছিলেন, যেগুলো হুযূরের শুভাগমনের পূর্বে ও হুযূরের নুবূয়ত প্রকাশের পূর্বে প্রকাশ পেয়েছিলো। তখন আমি হঠাৎ দেখতে পেলাম- সেখানে জ্যোতিসমূহেরই ছড়াছড়ি। তখন আমি গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করলাম ও বুঝতে পারলাম, ওই ‘নূর’ (জ্যাতি) হচ্ছে- ওইসব ফিরিশতারই, যাঁদেরকে এমন মাহফিলসমূহের (মীলাদ শরীফ ইত্যাদি) জন্য নিয়োজিত রাখা হয়েছে। অনুরূপ, আমি দেখেছি ‘রহমতের নূর’ ও ‘ফিরিশ্তাদের নূর’ সেখানে মিলিত হয়েছে।’’ [সূত্রঃ ‘ফুয়ূযুল হেরমাঈন’, আরবী-উর্দুঃ ৮০-৮১পৃ.।] শীর্ষস্থানীয় দেওবন্দী ব্যক্তিবর্গের পীর-মুর্শিদের বাণীঃ হাজী এমদাদুল্লাহ্ মুহাজির-ই মক্কী সাহেব বলেছেন, ‘‘মওলেদ শরীফ (মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সমস্ত হেরমাঈন শরীফাঈনবাসীই উদ্যাপন করেন। আমাদের জন্য এতটুকু দলীলই যথেষ্ট।’’ [সূত্র: ‘আশ্মাম-ই ইমদাদিয়াহ ৪৭ পৃ.।] মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওহাব নজদীর পুত্রের ফাতওয়াঃ শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব নজদী লিখেছেন, ‘‘কট্টর কাফির আবূ লাহাব নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর বেলাদতের খুশীতে তার ক্রীতদাসী সুয়ায়বাহকে আযাদ করার ফলে সে কবরে প্রতি সোমবার (বেলাদত শরীফের দিন) শান্তিদায়ক পানীয় (শোষণ) করার জন্য পেয়ে থাকে। সুতরাং ওই একত্ববাদী মুসলমানদের কী অবস্থা হবে (অর্থাৎ সে কী কী নি’মাত লাভ করবে), যে মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর খুশী উদ্যাপন করে থাকে!’’ (সংক্ষিপ্ত) [সূত্র: ‘মুখতাসার সীরাতুর রসূল’ ১৩ পৃষ্ঠা, হাফেয আবদুল গফূর আহলে হাদীস, ঝীলাম কর্তৃক প্রকাশিত।] আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে আমল করারও তৌফিক দিন! সুতরাং এ কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হল যে, ১২ রবিউল আউয়াল শরীফ মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এরই মহান দিবস। =।।দুই।।= ১২ রবিউল আউয়ার শরীফ কি বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত দিবসও? নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর ওফাত শরীফের তারিখ সম্পর্কে সাহাবা কেরাম থেকে চার ধরনের অভিমত বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। যেমন- রেওয়ায়ত- ১. ১২ রবিউল আউয়াল। এটা হযরত আয়েশা ও হযরত ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা ওয়া আন্হুমা) থেকে বর্ণিত। রেওয়ায়ত-২. ১০ রবিউল আউয়াল। এটা হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত। রেওয়ায়ত-৩. ১৫ রবিউল আউয়াল। এটা হযরত আসমা বিনতে আবী বকর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত। রেওয়ায়ত-৪. ১১ রমযান। এটা হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত। [সূত্র: রেওয়ায়ত ১ ও ২ প্রসিদ্ধ কিতাব ‘আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ’র ৫ম খণ্ড ২৫৬ পৃ. আর রেওয়াত ৩ ও ৪ ওয়াফা আল-ওয়াফাঃ ১ম খণ্ড, ৩১৮ পৃ.।] পর্যালোচনাঃ উল্লিখিত প্রথম রেওয়াত, যাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর ওফাত দিবস ১২ রবিউল আউয়াল বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেটার ‘সনদ’ বর্ণনাকারীদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে ওমর আল-ওয়াক্বেদী নামক একজন ‘বর্ণনাকারী’ (রাভী) রয়েছেন। তাঁর সম্পর্কে- ইমাম ইসহাক্ব ইবনে রাহ্ওয়াইহ্, ইমাম আলী ইবনে মদীনী, ইমাম আবূ হাতেম আল-রাযী এবং ইমাম নাসাঈ সর্বসম্মতভাবে বলেছেন, ‘ওয়াক্বেদী নিজ থেকেই হাদীসসমূহ রচনা করে নিতো।” ইমাম ইয়াহিয়া ইবনে মু‘ঈন বলেছেন, ‘‘ওয়াক্বেদী ‘সেক্বাহ্ নয় অর্থাৎ ‘‘নির্ভরযোগ্য নয়।’’ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বলেছেন, ‘ওয়াক্বেদী কায্যাব (অর্থাৎ মিথ্যাবাদী), হাদীসমূহে পরিবর্তন করে ফেলতো।’’ ইমাম বোখারী ও আবূ হাতেম রাযী বলেছেন, ‘‘ওয়াক্বেদী মাতরুক’ (অর্থাৎ পরিত্যক্ত)।’’ মুররাহ্ বলেছেন, ‘‘ওয়াক্বেদীর হাদীস লিপিবদ্ধ (উদ্ধৃত) করার উপযোগী নয়।” ইবনে আদী বলেছেন, ‘‘ওয়াক্বেদীর হাদীসগুলো ‘তাহরীফ’ (মনগড়াভাবে লিখিত হওয়া) থেকে মুক্ত নয়।’’ যাহাবী বলেছেন, ‘‘ওয়াক্বেদী অত্যন্ত দুর্বল (রাভী) হওয়ার উপর গবেষক, অনুসন্ধিৎসু ও প্রসিদ্ধ সমালোচক ইমামদের ঐক্যমত্য’ (اجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’’ [সূত্র: ‘মীযানুল ই’তিদাল’ ২য় খণ্ডঃ ৪২৫-৪২৬পৃ.।] অতএব, ১২ রবিউল আউয়াল শরীফকে ‘ওফাতুন্নবী’ (নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত দিবস) ব্যক্তকারী রেওয়ায়ত’ (বর্ণনা) মোটেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাছাড়া, সেটা এ কথার উপযোগীই নয় যে, দলীল হিসেবে গ্রহণ বা পেশ করা যাবে। রেওয়াত নম্বর-২ এর সনদের মধ্যে একজন ‘রাভী’ (বর্ণনাকারী) সায়ফ ইবনে ওমর হলেন ‘দুর্বল’। অপর ‘রাভী’ মুহাম্মদ ইবনে ওবায়দুল্লাহ্ আল-আরযমী হলেন ‘মাতরুক’ (পরিত্যক্ত)। [সূত্র: ‘তাক্বরীব আত-তাহযীবঃ ১৪২, পৃ. ও ২০৩পৃ, খোলাসাতুত্ তাযহীবঃ ১৬১পৃ. ও ৩৫০ পৃ. ‘তাহযীব আল-কামাল’, কৃত আল-খাযরাজী।] আর রেওয়ায়ত নং ৩ ও ৪-এর ‘সনদ’ই পাওয়া যায় না। অবশ্য, শীর্ষস্থানীয় তাবে’ঈ ইবনে যুহরী, সুলায়মান ইবনে তারখান, সা‘আদ ইবনে ইব্রাহীম যুহরী প্রমুখ থেকে নির্ভরযোগ্য সনদসমূহ সহকারে ১লা কিংবা ২রা রবিউল আউয়ালই ওফাতের তারিখ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। মোটকথা, ১২ রবিউল আউয়ালকে ওফাত দিবস সাব্যস্ত করা না সাহাবা কেরাম থেকে প্রমাণিত, না তাব’ঈন থেকে। কাজেই, পরবর্তীতে কিছু সংখ্যক ইতিহাসবেত্তা কর্তৃক ১২ রবিউল আউয়ালকে ওফাত-দিবস সাব্যস্ত করা কোন মতেই দুরস্ত (গ্রহণযোগ্য) হতে পারে না। এখানে গভীরভাবে চিন্তা করার বিষয় হচ্ছে-যখন সাহাবা কেরাম (যাঁরা হুযূরের ওফাত শরীফের চাক্ষুষ সাক্ষী ছিলেন) এবং তাঁদের শাগরিদ তাবে‘ঈগণ থেকে একথা প্রমাণিত নয়, তখন পরবর্তী ঐতিহাসিকগণ কিভাবে একথা জানতে পারলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর ওফাত শরীফ ১২ রবিউল আউয়ালই হয়েছে? এ কারণেই প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য দেওবন্দী ইতিহাসবেত্তা শিবলী নো’মানীও ১ রবিউল আউয়ালকেই হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত দিবস সাব্যস্ত করেছেন। [সূত্রঃ সীরাতুন্নবী ২য় খণ্ডঃ ১৭০ পৃ.।] মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদীর পুত্র শায়খ আবদুল্লাহ্ ৮ রবিউল আউয়ালকে ‘ওফাত-দিবস’ লিখেছেন। [সূত্র : মুখতাসার সীরাতুর রসুলঃ ৯ পৃ.।] ‘জ্যোতির্বিদ্যা’ ও বর্ষপঞ্জিকা নির্ণয় শাস্ত্র মতেও ১২ রবিউল আউয়ালকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামের ওফাত দিবস সাব্যস্ত করা যায় না। প্রসিদ্ধ গবেষক ও নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক ইমাম আবুল কাসেম আবদুর রহমান সোহায়লী (ওফাত ৫৮১ হিজরি) বলেছেন- وَکَیْفَمَادَارَ الْحَالُ عَلٰی ہٰذَ االْحِسَابِ فَلَمْ یَکُنِ الثَّانِیْ عَشَرَ مِنْ رَبِیْعِ الْاَوَّّلِ یَوْمَ الْاِثْنَیْنِ بِوَجْہٍ অর্থাৎ ‘‘এই হিসাবের উপর যে কোন অবস্থাই প্রদক্ষিণ করুক, কিন্তু (একই সাথে) ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার ‘ওফাত দিবস’ কোন মতেই আসতে পারে না। এ বিষয়বস্তুটিই (অভিমত) অতি শক্তিশালী ভাষায় সুপ্রসিদ্ধ মুসলিম দার্শনিক ও ইতিহাসবেত্তা মুহাম্মদ শামসুদ্দীন আল-যাহাবী, ইবনে আসাকির, ইবনে কাসীর, ইমাম নূরুদ্দীন আলী ইবনে আহমদ আল-সামহুদী, আলী ইবনে বোরহান উদ্দীন আল-হালবী প্রমুখও বর্ণনা করেছেন। [সুত্র: ইমাম যাহাবীকৃত ‘তারিখ-ই ইসলাম, ‘আস্-সীরাত আন্ নবভিয়্যাহ্’ অধ্যায়: পৃষ্ঠা-৩৯৯-৪০০ এবং ওয়াফা আল-ওয়াফাঃ ১ম খণ্ড ৩১৮ পৃষ্ঠা, ‘আল-বিদায়াহ্ ওয়ান নিহায়াহ্, ৫ম খণ্ডঃ ২৫৬পৃ, সীরাতে হালবিয়াহঃ ৩য় খণ্ডঃ ৪৭৩ পৃষ্ঠা ইত্যাদি।] মোটকথা, ১২ রবিউল আউয়াল বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর পবিত্র ‘ওফাত-দিবস’ হওয়া কোন মতেই প্রমাণিত হতে পারে না; না যুক্তি-তর্কে, না কোন সুস্পষ্ট দলীলের উদ্ধৃতির ভিত্তিতে, না কোন ‘রাভী’র বর্ণনার ভিত্তিতে, না কারো চিন্তা-ভাবনা বা গবেষণার ভিত্তিতে। অবশ্য ‘সোমবার’ ওফাত শরীফ হওয়ার ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। এর পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়। [সূত্রঃ মাদারিজুন্ নুবূওয়াত ইত্যাদি।] আল্লাহরই জন্য সমস্ত প্রশংসা! এ কারণেই সারা দুনিয়ার সুন্নী মুসলমান ১২ রবিউল আউয়াল বিশ্বনবী হুযূর পূরনুর সাল্লাল্লাহু তা‘য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর মিলাদ শরীফ’-এঁর খুশীই উদযাপন করে থাকেন। এটা একদিকে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহুর মহান বাণীরই অনুসরণে তাঁরা করে থাকেন। যেমন- আল্লাহ পাক এরশাদ ফরমান- قُلْ بِفَضْلِ اللّٰہِ وَبِرَحْمَتِہٖ فَبِذَالِکَ فَلْیَفْرَحُوْا ط ہُوَ خَیْرٌ مِمَّا یَجْمَعُوْنَ ط অর্থাৎ ‘(হে মাহবুব! আপনি বলুন! আল্লাহরই অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া, এবং সেটারই উপর তাদের আনন্দ প্রকাশ করা উচিত। তা তাদের সমস্ত ধন-দৌলত অপেক্ষা শ্রেয়!’ [সূরা ইয়ূনুস, আয়াত ৫৮, তরজমা, কানযুল ঈমান, (বঙ্গানুবাদ ৩৯৫পৃ.)] কারণ, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর আবির্ভাব (বেলাদত শরীফ)’-ই হচ্ছে সর্বাপেক্ষা বড় নি’মাত বা অনুগ্রহ। এটা ১২ রবিউল আউয়াল শরীফেই অর্জিত হয়েছে। অন্যদিকে এ দিনে খুশী উদযাপন করা মুসলমানদের ঈমানেরই দাবি। =।।তিন।।= এখন যদি কেউ একথা বলে, ১২ রবিউল আউয়াল শুধু মিলাদুন্নবীর খুশী উদযাপন না করে, ‘ওফাতুন্নবী’র শোকও পালন করা চাই, কেউ যদি মিলাদুন্নবী উদযাপন করাকে শির্ক ও বিদ‘আত ইত্যাদিও বলে বেড়ায়, আবার কেউ কেউ যদি মুসলমানদের মিলাদুন্নবী উদযাপনকে ওফাতুন্নবীর শোক দিবস হিসেবেও আখ্যায়িত করার প্রয়াস পায়, তবে ওদের উক্তিগুলো কতটুকু যুক্তিযুক্ত? এর জবাব হচ্ছে- প্রথমত আমরা প্রমাণ করেছি যে, ১২ রবিউল আউয়াল ‘মিলাদ-দিবস’ই; ‘ওফাত দিবস’ নয়। এতদ্সত্ত্বেও যদি ওই দিনকে ‘ওফাত-দিবস’ বলে কল্পনাও করা হয়, কিংবা যারা এরূপ বলে বেড়ায় তাদের কথা কিছুক্ষণের জন্য মেনেও নেয়া হয়, তবুও মিলাদ শরীফে-এর খুশী উদযাপন করাই ওইদিনে (তারিখে) জায়েয বা বৈধ থাকবে, আর ওফাতের শোক পালন করা নিষিদ্ধ হবে। কেননা, নি’মাত বা মহা অনুগ্রহের উপর খুশী উদযাপন করা শরীযত মতে, সর্বদা ও বারংবারই বৈধ, প্রশংসিত ও পছন্দনীয়। যেমন, হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম ‘মা-ইদাহ’ (খাদ্যভর্তি খাঞ্ছা) অবতীর্ণ হবার দিনকে আপন পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের জন্য ‘ঈদ’ (খুশী) সাব্যস্ত করেছেন। [সূত্রঃ ক্বোরআন মজীদ, সূরা মাইদাহ্, আয়াত ১১৪ দ্রষ্টব্য।] আর ওফাতের জন্য শোক প্রকাশ ওফাতের তিন দিন পর অকাট্য ও সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ও নাজায়েয। কিন্তু, আফসোস্! যারা মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর খুশী উদযাপনের বিরোধিতা করতে গিয়ে ‘ওফাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর শোক পালন করার পক্ষে খোঁড়া যুক্তি দেখায় তারা যে শরীয়তের বিধান সম্পর্কেও অবগত নয়-তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। আর তাদের একথাও হৃদয়ঙ্গম করা উচিত যে, বিশ্বের কোথাও কোন মুসলমান ওফাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এঁর শোক পালন না করার অন্যতম প্রধান কারণ এটাও। সুতরাং ইমামে দারুল হিজরত ইমাম মালেক ইবনে আনাস আস্ আসবাহী, ইমামে রব্বানী ইমাম মুহাম্মদ ইবনে হাসান আশ-শায়বানী, ইমাম আবূ বকর আবদুর রায্যাক্ব, ইবনে হুমাম আস-সানা‘আনী, ইমাম হাফেয আবূ বকর আবদুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবী শায়বাহ্, ইমাম আবূ বকর আবদুল্লাহ্ ইবনে যুবায়র আল হুমায়দী, ইমামে জলীল ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, ইমাম আবূ জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আত্-তাহাভী, ইমাম আবূ আবদিল্লাহ্ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বোখারী, ইমাম মুসলিম ইবনুল হুজ্জাজ আল ক্বোশায়রী, ইমাম আবূ ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সুরাহ্ আত্ তিরমিযী, ইমাম আবূ দাঊদ সুলায়মান ইবনে আশ‘আস আস-সাজিস্তানী, ইমাম আবু আবদির রহমান আহমদ ইবনে শো‘আয়ব আন-নাসাঈ, ইমাম আবূ আবদিল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মাজাহ্ আল-ক্বাযভীনী, ইমাম আবূ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবদির রহমান আদদারমী, ইমাম আবূ বকর আল্ বায্যায, ইমাম আবূ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ্ ইবনে আলী ইবনে জারূদ আন্-নিশাপূরী এবং ইমাম হাফেয আবূ বকর আহমদ ইবনে হোসাঈন আল-বায়হাক্বী (রাহিমাহুমুল্লাহ)- বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দেসীন কেরাম (এর বিরাট জমা‘আত) নির্ভরযোগ্য সহীহ্ সনদ সহকারে এবং সাহাবা কেরামের বিরাট জমা‘আতের মধ্যে হযরত আনাস ইবনে মালেক, হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে ওমর, উম্মাহাতুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীক্বাহ্, হযরত উম্মে সালমাহ্, হযরত যয়নব বিনতে জাহ্শ, হযরত উম্মে হাবীবাহ্, হযরত হাফসাহ্, অনুরূপভাবে উম্মে ‘আতিয়্যাহ্ আল-আনসারীয়্যাহ্, ফারী‘আহ্ বিনতে মালিক ইবনে সিনান, হযরত আবূ সা‘ঈদ আল-খুদ্রী (রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলাা আনহুম ওয়া আনহুন্না) থেকে সরাসরি নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এঁর সূত্রে `مرفوع, প্রায় কাছাকাছি বচনে, একই বিষয়বস্তু (অভিমত) বর্ণনা করেছেন। তা নিম্নরূপঃ اُمِرْنَا اَنْ لاَ نَحُدَّ عَلٰی مَیِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ اِلاَّ لِزَوْجٍ অর্থাৎ ‘‘ আমাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন আমরা কোন ওফাতপ্রাপ্তের উপর তিনদিনের পর আর শোক প্রকাশ না করি, কিন্তু স্বামীর জন্য ৪ মাস দশ দিন পর্যন্ত স্ত্রী শোক প্রকাশ করতে পারে।’’ রেফারেন্সঃ ১/ মুয়াত্তা-ই ইমাম মালেকঃ ২১৯ ও ২২০পৃ., ২/ ‘মুআত্তা-ই ইমাম মুহাম্মদ’ ২৬৭ পৃ. ৩/ ‘মুসান্নাফ-ই আবদির রায্যাক্ব’ ৭ম খণ্ডঃ ৪৭, ৪৮ ও ৪৯ পৃষ্ঠা, ৪/ ‘মুসান্নাফ-ই ইবনে আবী শায়বাহ্’ ৫ম খণ্ডঃ ২৭৯, ২৮০ ও ২৮১ পৃ. ৫/ মুসনাদ-ই হুমায়দীঃ ১ম খণ্ডঃ ১১২ ও ১৪৬পৃ, ৬/ মুসনাদ-ই আহমদ মুবাওয়াবঃ ৭ম খণ্ডঃ ১৪৭-১৫১পৃ, ৭/ ইমাম তাহাভী, কৃত. ‘শরহে মা‘আনী আল-আসারঃ ২য় খণ্ডঃ ৪৮ ও ৪৯ পৃ, ৮/ সহীহ বোখারী শরীফঃ ২য় খণ্ডঃ ৮০৪পৃ, ৯/ সহীহ মুসলিম শরীফঃ ১ম খণ্ডঃ ৮৮৬-৮৮৮ পৃষ্ঠা, ১০/ জামে’আত-তিরমিযীঃ ১ম খণ্ডঃ ২২৭ পৃ. ১১/ আবূ দাউদ, ১ম খণ্ডঃ ৩১৪পৃ. ১২/ সুনান-ই নাসাঈঃ ২য় খণ্ডঃ ১১৬-১১৮পৃ. ১৩/ সুনান-ই ইবনে মাজাহ্, ১ম খণ্ডঃ ৫২ পৃষ্ঠা, ১৪/ সুনান-ই দারমী, ২য় খণ্ডঃ ৭৯ ও ৮০ পৃ. ১৫/ ‘মুসনাদ-ই ইমাম আল-বায্যায’, ‘মাজমা’আয্-যাওয়াহিদ’-এর বরাতেঃ ৫ম খণ্ড, ৩ পৃ. ১৬/ ‘আল মুন্তাক্বা’, কৃত ইবনে জারূদঃ ২৫৮ও ২৫৯ পৃ. ১৭/ ইমাম বায়হাক্বী কৃত সুনান আল-কবীরঃ ৭ম খণ্ডঃ ৪৩৭-৪৪০ পৃ. (বচনগুলো ইমাম আবদুর রাওযাক্ব-এর) এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, তিন দিনের পর ওফাতের শোক প্রকাশ করা বৈধ নয়, নিষিদ্ধ; কিন্তু নি’মাত বা অনুগ্রহ লাভের জন্য খুশী বারবারই উদযাপন করা যেতে পারে, শরিয়ত মতে তা সর্বদাই বৈধ ও পছন্দনীয়। এ কারণে বিশ্ব মুসলিম ১২ রবিউল আউয়ালকে ওফাতের শোক দিবস হিসেবে উদযাপন করেন না; বরং মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামরূপী নি’মাতের খুশীই উদযাপন করে থাকেন। দ্বিতীয়ত রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ ফরমান- اِنَّ مِنْ اَفْضَلِ اَیَّامِکُمْ یَوْمُ الْجُمُعَۃِ فِیْہِ خُلِقَ اٰدَمُ وَفِیْہِ قُبِضَ অর্থাৎ ‘‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে উৎকৃষ্ট দিন হচ্ছে ‘জুমু‘আর দিন। ওই দিনে হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম জন্মগ্রহণ করেছেন, ওই দিনেই তিনি ওফাত পান।’’ [সূত্রঃ ‘সুনান-ই নাসাঈঃ ১ম খণ্ডঃ ১৫০ পৃষ্ঠা ইত্যাদি হাদীস গ্রন্থাবলী।] اِنَّ ہٰذَا یَوْمُ عِیْدٍ جَعَلَہُ اللّٰہُ لِلْمُسْلِمِیْنَ অর্থাৎ ‘‘এ জুমু‘আ-দিবস হচ্ছে ঈদের দিন। এটাকে আল্লাহ তা‘আলা ঈদের দিন সাব্যস্ত করেছেন।’’ [সূত্র: সুনান-ই ইবনে মাজাহঃ ৭৮পৃ., এরই অর্থে বর্ণিত হয়েছে ‘মুসনাদ-ই ইমাম আহমদ’ ইত্যাদিতে।] সুতরাং বুঝা গেলো যে, জুমু‘আর দিন হচ্ছে- একজন নবীর (হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম) মিলাদ বা জন্মের দিনও, আবার ওফাতের দিনও। এতদ্সত্ত্বেও আল্লাহ তা‘আলা ‘ওফাতের শোক’কে উপেক্ষা করে ‘মিলাদ’-এর দিনের খুশীকেই স্থায়িত্ব দান করেছেন এবং প্রত্যেক জুমু‘আর দিবসে ঈদ বা খুশী উদ্যাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাছাড়া, �
|