মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১ ১২ শ্রাবণ ১৪২৮

মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১

শিয়াবাদের বৈশ্বিক উত্থানের গোড়ার সন্ধানে
সুন্নীবার্তা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২১, ৪:৪০ পিএম আপডেট: ২৮.০৪.২০২১ ৫:২০ পিএম  Count : 391



শিয়াবাদের বৈশ্বিক উত্থান:
ইসনে আশআরী(দ্বাদশ ইমামে বিশ্বাসী) শিয়ারা সাফাভী যুগ থেকেই পারস্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ।রেজাশাহকে সরিয়ে খোমেনীর নেতৃত্বে রাষ্ট্র ক্ষমতায় শিয়া মাজরাদের আধিপত্য শুরু হওয়ার পর থেকেই এরা কিছু নীতিমালা ঠিক করে।  এখানে মনে রাখা প্রয়োজন যে,পারস্যের রাষ্ট্রীয় শিয়াবাদীদের সাথে এদেশীয় ইমামবাড়া বানানো শিয়াদের অনেক ক্ষেত্রেই দৃষ্টিভঙ্গীগত ফারাক আছে।
                                                                                                                                                                                                             
রাষ্ট্রীয় শিয়াবাদীদের নীতিমালার অধীনে পারসিক শিয়ারা খুব সুবিধাজনক অবস্থায় না থাকলে কাউকে সরাসরি শিয়াবাদের দাওয়াত দেয় না।  বরং এদের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বলয়ে রাজনৈতিকভাবে ও আকীদাগতভাবে মিত্রের সংখ্যা বাড়ানো এবং কৌশলে শিয়া আকীদার বিপরীতে অবস্থানকারীদের ঐক্যে ফাটল ধরানো।  মিত্রের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে শিয়া আকীদার বিপরীতে অবস্থানকারীদের সাথে শিয়া আকীদার মিলগুলো সামনে নিয়ে আসে।  যাদের মধ্যে নমণীয়তা পায়, হৃদত্যার তৈরীর জন্য তাদেরকে শিয়া মাহফিলসমূহে দাওয়াত দেয় ও কিতাব বিতরণ করে।

এরা প্রথমে পঞ্চম মাযহাব হিসেবে জাফরী মাযহাবের স্বীকৃত আদায় করে, তারপর শ্রেষ্ঠ মাযহাব হিসেবে জাফরী মাযহাবকেই সাব্যস্থ করে। এরা একদিকে আহলে সুন্নাহর স্বীকৃত কিতাবসমূহ হতে শিয়া বিশ্বাসের অনুকূল মতসমূহ পেশ করতে থাকে, আরেক দিকে যেসব উসুলের উপর ভিত্তি করে এসব কিতাব রচিত হয়েছে সেসবকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তদস্থলে শিয়া কিতাবসমূহের গ্রহণযোগ্যতা সাব্যস্ত করে।শিয়া আকীদার বিপরীতে অবস্থানকারীদের যাদের মধ্যে আপোষকামীতা পায়, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক পৃষ্ঠপোষকতা এরা করে।

শিয়াবাদের বর্ডার কোথা থেকে শুরু সেটা পরিষ্কার করে জানা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু বর্ডার গার্ডরাই যে অনেক জায়গায় ইতোমধ্যে কম্প্রোমাইজড!



উদাহরণস্বরুপ পশ্চিমবঙ্গের এক প্রথিতযশা দরবারের কথা আজ জানা যাক।  দাবী অনুযায়ী এই দরবারের মাশায়েখে কেরামের নিসবত হুযুর গাউসে পাকের পবিত্র বংশধারার সাথে।  অনেকে তা বিশ্বাসও করেন কারণ তাদের শত বছরের পুরানো কাছীদাসমূহে আহলে আবা-আহলে বাইত- আসহাবে কেরাম এর মুয়াদ্দাত-মুহাব্বাত-তাযীমের ছাপ স্পষ্ট।

এই দরবারের আহলে বাইত, গদীরে খুম, পাক পাঞ্জাতন, কারবালা, সুফিজম নিয়ে নিয়মিত আয়োজন হয়।যেহেতু পারস্য সূফিজমের সবচেয়ে উর্বর ক্ষেত্র ছিলো সেহেতু ইনারা বর্তমান পারস্যের আহলে তাশাইয়্যুদের সাথেও বেশ সুসম্পর্ক রেখেই চলেন।বিগত কয়েক বছর ধরে এই দরবারের দায়িত্বশীলরা আহলে তাশাইয়্যুদের অনুসরণে ও সহযোগিতায় শরীর রক্তাক্ত করে তাযিয়া মিছিলের আয়োজন করে আসছেন (যদিও সম্প্রতি পারসিক আহলে তাশাইয়্যুদের রাহবার শরীর রক্তাক্ত করার বিপরীতে মত দিয়েছেন)।
ইনারা একটি জায়গার নামকরণ করেছেন কারবালারনগর,এরপর সেখানে আহলে তাশাইয়্যু মাজরাদের নিয়ে ইমামবাড়ার ভিত্তি প্রস্তরদানের অনুষ্ঠান বেশ ঘটা করেই করেছেন।

জানা থাকা ভালো যে,আহলে তাশাইয়্যুরা হুযুর গাউসে পাককে আলে রাসুল বলেই স্বীকার করে না।  আর হুযুর গাউসে পাকের পবিত্র বংশধারার এই দাবীদারেরা আহলে তাশাইয়্যুদের সন্তুষ্টির স্বার্থে "গুনানিয়াতুত্ত্বালেবীন"-যে হুযুর গাউসে পাককের কিতাব তা বেমালুম অস্বীকার করছেন!!!এক সময়ের শিয়াবাদীদের বিপরীতে অবস্থানকারী এই বর্ডারগার্ডরা অস্তিত্ব বিকিয়ে দিয়ে এখনো নিজেদের কেবল কাদেরী-ই বলেন না, রীতিমতো স্টেকহোল্ডার বলেও দাবী করেন।

                                                                                     
শিয়াবাদীদের নিউজ পোর্টাল:
পশ্চিমা অবরোধজনিত কারণে রাষ্ট্রীয় শিয়াবাদীদের অঢেল আর্থিক সামর্থ্য না থাকলেও এখনো পর্যন্ত বুদ্ধিবৃত্তিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্য অর্থ ব্যায়ের পর্যাপ্ত সামর্থ্য তাদের আছে।
সব ক্ষেত্রে এদের খুব বেশি অর্থ ব্যায় করার প্র‍য়োজনও হয় না।  এরা মেক্সিমাম রিটার্ন এর কথা হিসেব করেই বিনিয়োগ করে। মনে রাখা ভালো এসব পৃষ্ঠপোষকতা রাষ্ট্রীয় শিয়াবাদীরা ছাড়াও স্থানীয় শিয়া/শিয়া ঘনিষ্ঠ ব্যাক্তিবর্গও করে থাকে।

পশ্চিমা অবরোধজনিত কারণে রাষ্ট্রীয় শিয়াবাদীদের অঢেল আর্থিক সামর্থ্য না থাকলেও এখনো পর্যন্ত বুদ্ধিবৃত্তিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্য অর্থ ব্যায়ের পর্যাপ্ত সামর্থ্য তাদের আছে। রাষ্ট্রীয় শিয়াবাদীরা মেক্সিমাম রিটার্ন এর কথা হিসেব করেই বিনিয়োগ করে।

এদেশে আহলে তাশাইয়্যু বা শিয়াবাদীদের যে কয়টা নিউজ পোর্টাল আছে, সালাফী দাবিদার ওহাবীদেরও তত নিউজ পোর্টাল নেই।রাষ্ট্রীয় শিয়াবাদীদের নীতিমালার অধীনে চালিত এসব নিউজ পোর্টাল একদিকে শিয়া মাজরা-আয়াতুল্লাহ শাসিত পারস্যের উন্নয়ন-অগ্রগতির নয়া নয়া বয়ান তুলে ধরে, আবার একই সাথে পারস্যের আহলে তাশাইয়্যুদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলা আহলে তাসাউফদের সাথে ঐক্যের সুর তোলে।

আন্তর্জাতিক বলয়ে রাজনৈতিকভাবে ও আকীদাগতভাবে মিত্রের সংখ্যা বাড়ানো এবং কৌশলে শিয়া আকীদার বিপরীতে অবস্থানকারীদের ঐক্যে ফাটল ধরানোর লক্ষ্যে কাজ করা এসব নিউজ পোর্টাল যেভাবে তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে শিয়া মতবাদের গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করে, তা সাধারণ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্ভব নয়।  

দেশের রাজধানীতেই পারসিক শিয়াদের প্রতিষ্ঠিত শিয়া ঘরানার বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস :
বিলাল ফিলিপসের অনলাইনের ইউনিভার্সিটি অথবা মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় যে ওহাবীবাদের পৃষ্ঠপোষক তা তো জানা কথা।তবে সুন্নী ঘরানার প্রতিষ্ঠানে পড়ে ওহাবীবাদের এসব প্রতিষ্ঠানে দীক্ষা গ্রহণের ঘটনা খুব একটা জানা যায় না। বিদেশী ওহাবীবাদীদের প্রতিষ্ঠিত কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের এদেশীয় শাখা ক্যাম্পাসের কথাও জানা নেই।  তবে এদেশের রাজধানীতেই পারসিক শিয়াদের প্রতিষ্ঠিত শিয়া ঘরানার বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস আছে, যার মূল ক্যাম্পাস পারস্যের কোম এ অবস্থিত। এই শিয়া ঘরানার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক পরিসরে অনলাইন পাঠদান কার্যক্রমও আছে।   


এদেশে ওহাবীবাদীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেও সচরাচর সেটার ছাত্রের যোগান কোন সুন্নী ঘরানার প্রতিষ্ঠান থেকে হয় না। তবে এদেশের রাজধানীতেই পারসিক শিয়াদের প্রতিষ্ঠিত শিয়া ঘরানার বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস যে ছাত্র সংগ্রহ করে থাকে, তার উল্লেখ্যোগ্য অংশটিই সুন্নী ঘরানার প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত হয়।পারস্যে পাঠগ্রহণকালে এদেশীয় এসব ছাত্র পারসিক শিয়াদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাসিজ মিলিশিয়াদের সাথে সামাজিক কার্যক্রম চালানো সুযোগও পায়। পারসিক শিয়ারা খুব সুবিধাজনক অবস্থায় না থাকলে কাউকে সরাসরি শিয়াবাদের দাওয়াত দেয় না।তবে শিয়া মতবাদের গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এরা বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন উপলক্ষ্যে সেমিনারের আয়োজন করে।এসব সেমিনারে মূলতঃ পারসিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা,কোমকেন্দ্রিক শিয়া ঘরানার বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাসের প্রতিনিধিরা, পারসিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলা সাহিত্যিক-অধ্যাপক-আলেমরা বক্তব্য দেন।বিনিময়ে এসকল সাহিত্যিক-অধ্যাপক-আলেমদের পারস্য ভ্রমণের প্রায় ফ্রি মওকা মিলে যায়।




আরও সংবাদ   বিষয়:  শিয়াবাদ    আহলে বাইত   গদীরে খুম   পাক পাঞ্জাতন   কারবালা   সুফিজম  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশক ও সম্পাদক :---
"মা নীড়" ১৩২/৩ আহমদবাগ, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪
ফোন : +৮৮-০২-৭২৭৫১০৭, মোবাইল : ০১৭৩৯-৩৬০৮৬৩, ই-মেইল : [email protected]