শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৩ আশ্বিন ১৪২৮

শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

ফরাসি সাংবাদিকদের ড্রোন সুন্দরবনে আটক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ৩:১২ এএম আপডেট: ২১.০২.২০১৬ ৯:৩৫ পিএম  Count : 834

গত ৩১ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্যের বাদামতলা এলাকায় আকাশে উড়তে থাকা একটি ড্রোন আটক করে বন বিভাগ।অনুমতি ছাড়াই সুন্দরবনে ড্রোনটি ব্যবহার করেন ফ্রান্সের তিন সাংবাদিক। বন বিভাগ ড্রোনটি আটক করে ফরাসি সাংবাদিকদের ছেড়ে দিয়েছে। ঘটনার আটদিন পার হয়ে গেলেও ড্রোনটির ভবিষ্যৎ আটকে আছে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে।
                                                                            

ফরাসি সাংবাদিকরা ড্রোনটি ফিরে পেতে চান। অন্যদিক বন বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি তিনটি মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। আর এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে তারা।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, পাগমা টুর অ্যান্ড ট্রাভেলস নামক প্রতিষ্ঠানের এম এল বাওয়ালী লঞ্চে করে অন্যদের সঙ্গে ফ্রান্সের ‘এআরটিই’ টেলিভিশনের তিন সাংবাদিক গাই কিউসি, টিমো এভাম্যান ও নাসিম এলমাউন সুন্দরবন ভ্রমণে আসেন। ৩১ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে এই তিন সাংবাদিক কটকা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ বনের বাদামতলার আকাশে ক্যামেরা আছে এমন একটি ড্রোন উড়িয়ে বন্য প্রাণীসহ জীববৈচিত্র্যের ছবি ধারণ করতে থাকেন। বিষয়টি প্রথমে জেলে ও বনজীবীদের নজরে এলে কটকা অভয়ারণ্যে হৈ চৈ পড়ে যায়। পরে কটকা অভয়ারণ্যের বন কর্মকর্তা শাহ নোমান তিন সাংবাদিকের ওড়ানো ড্রোনটি নিচে নামিয়ে আনতে বাধ্য করেন।

অভয়ারণ্যে ড্রোন ওড়ানোর জন্য বন বিভাগ থেকে কোনো অনুমতি না নেওয়ায় ড্রোনটিকে আটক করেন বন কর্মকর্তা শাহ নোমান। বন বিভাগের কাছে ওই তিন সাংবাদিক সুন্দরবন নিয়ে তাঁদের দেশের টেলিভিশনের জন্য প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করার কথা জানালে ড্রোনটি রেখে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফ্লাইং ক্যামেরাসহ আটক ওই ড্রোনটি হচ্ছে কানাডার ডিজেআই কোম্পানির। যার মডেল নং- পি-৩৩০জেড, সিরিয়াল নাম্বার পিএলএল-৬৩৬১৫৪১২৬।

বন বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, ড্রোনটি বাংলাদেশে আনার জন্য শুল্ক বিভাগের ছাড়পত্র ও বাংলাদেশে আকাশে ওড়ানোর জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতিও দেখাতে পারেননি ফ্রান্সের সাংবাদিকরা। পরে আটক ড্রোনটি পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের কার্যালয়ে আনা হয়। এক সপ্তাহ ধরে আটক এই ড্রোনটির বিষয়ে সুষ্ঠু কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি সুন্দরবন বিভাগ।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এখন এই ড্রোনটির বিষয়ে কী করা হবে তা জানতে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সোমবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সে মতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি আরো বলেন, বনে প্রবেশ ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমতি থাকলে ড্রোন ব্যবহারের অনুমোদন না থাকায় ড্রোনটি আটক করে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

পাগমা ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস কোম্পানির মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ‘এআরটিই’ টেলিভিশনে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সুন্দরবন নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করতে ‘জেড’ প্রোডাকশন কোম্পানি তিন সাংবাদিককে বাংলাদেশে পাঠায়। তাঁরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে আমাদের মাধ্যমে সুন্দরবন ভ্রমণে যায়। গত ৩১ জানুয়ারি ড্রোনে ফ্লাইং ক্যামেরার সাহায্যে সুন্দরবনে বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের ছবি ধারণকালে বন বিভাগ ড্রোনটি আটক করে। পরে প্রামাণ্যচিত্র করার বিষয়টি জানতে পেরে ড্রোনটি রেখে তিন সাংবাদিককে বন বিভাগ ছেড়ে দেয়। সুন্দরবনে ড্রোন ওড়াতে বন বিভাগের অনুমতির বিষয়টি ওই বিদেশি তিন সাংবাদিকের জানা না থাকার কারণে তাঁরা বিড়ম্বনায় পড়েছেন।’

নজরুল ইসলাম আরো জানান, ফরাসি সাংবাদিকরা এই বিষয়টি না জানার কারণ উল্লেখসহ ভুল স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে সুন্দরবন বিভাগের কাছে ড্রোনটি ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য ওই তিন সাংবাদিক ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাসের হস্তক্ষেপ কামনা করে এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন।


আরও সংবাদ   বিষয়:  ফরাসি সাংবাদিকদ   ড্রো্‌ সুন্দরবন   আটক  




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশক ও সম্পাদক :---
"মা নীড়" ১৩২/৩ আহমদবাগ, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪
ফোন : +৮৮-০২-৭২৭৫১০৭, মোবাইল : ০১৭৩৯-৩৬০৮৬৩, ই-মেইল : [email protected]